খোকন মাহমুদ মানবাধিকার খবর প্রতিনিধি:- উত্তরার ব্যস্ত রাস্তায় বাবার সামনে থেকে মেয়েকে তুলে নেওয়া—ঘটনাটা শুনতেই সিনেমার দৃশ্য মনে হয়। কিন্তু নয় দিন পর যখন মেয়েটিকে জীবিত উদ্ধার করা হলো, তখন এই গল্পে এক ধরনের স্বস্তি ফিরে এসেছে, যদিও প্রশ্নগুলো এখনও রয়ে গেছে।
এই ঘটনাটি ঘটেছিল ঢাকার উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে, দিনের আলোয়। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বাবার সামনেই কয়েকজন যুবক একটি প্রাইভেটকারে জোর করে তুলে নেয় দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে। মুহূর্তটা এত দ্রুত ঘটে যে প্রতিরোধের সুযোগই পাননি বাবা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অপহরণের পর মেয়েটিকে বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তর করা হয় যাতে তাকে সহজে খুঁজে না পাওয়া যায়। অপহরণকারী লামীন ইসলাম, বয়স মাত্র ১৯, আগেই মেয়েটির ওপর নজর রেখেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, সে একা ছিল না—তার সঙ্গে আরও কয়েকজন সহযোগী ছিল, যারা এখনো পলাতক।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় তথ্যের সমন্বয়ে পুলিশ শেষ পর্যন্ত গাজীপুরের পূবাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই উদ্ধার করা হয় মেয়েটিকে। বর্তমানে মেয়েটি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার মূল্যায়ন চলছে।
এই ঘটনায় কয়েকটি বড় প্রশ্ন সামনে চলে আসে:
* দিনের বেলায়, জনবহুল এলাকায় এমন অপহরণ কীভাবে সম্ভব হলো? অপহরণকারীর সাথে মেয়েটির আগে পরিচয় বা সম্পর্ক ছিল কিনা?
* অপহরণকারীরা আগে থেকেই কি পরিকল্পনা করেছিল?
* স্কুলপড়ুয়া শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের কোথায় ঘাটতি রয়ে গেছে?
পুলিশ জানিয়েছে, বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে এবং পুরো ঘটনাটির পেছনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে—এটি কি শুধুই ব্যক্তিগত আসক্তি, নাকি এর পেছনে বড় কোনো চক্র কাজ করছে।
একজন বাবা তার সন্তানের হাত ধরে বাড়ি ফিরছিলেন—সেই নিরাপদ মুহূর্তটাই ভেঙে গেল কয়েক সেকেন্ডে। এই ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের নয়, আমাদের সবার জন্যই এক সতর্কবার্তা।
এখন দেখার বিষয়, আইনের শেষ পর্যন্ত কতটা কঠোর প্রয়োগ হয় এবং এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেই নিশ্চয়তা আমরা আদৌ দিতে পারি কি না।