শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   রাজনীতি
নতুন–পুরোনো মিলিয়ে মন্ত্রিসভা গঠিত
  Date : 18-02-2026

দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে নতুন যাত্রার সূচনা করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছেন—যেখানে জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি দলের মধ্যম সারি ও নবীনদের বড় একটি অংশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁদের শপথ পড়ান। এর মধ্য দিয়ে বহুল প্রত্যাশিত নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।

৫০ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাষ্ট্র পরিচালনার এই যাত্রায় তিন প্রজন্মের নেতাদের মিশেলে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। অনেকে জীবনে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। মন্ত্রিসভায় নতুন মুখের সংখ্যাই বেশি। অনেকে বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার চেয়ে বেশি ভারী দায়িত্ব পেয়েছেন। আবার উৎসাহব্যঞ্জক নয়, এমন নামও মন্ত্রিসভায় আছে।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁদের মন্ত্রিসভায় থাকাটা প্রত্যাশিত ছিল।

তবে দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খান নতুন মন্ত্রিসভায় নেই। এর মধ্যে খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে রাষ্ট্রপতি ও আবদুল মঈন খানকে জাতীয় সংসদের স্পিকার করার বিষয় আলোচনায় আছে বলে শোনা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, এ কারণে তাঁদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

৫০ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাষ্ট্র পরিচালনার এই যাত্রায় তিন প্রজন্মের নেতাদের মিশেলে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে।

মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমানসহ স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্যের নাম মন্ত্রিসভায় নেই। তবে মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খানসহ ১০ জনকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়। মন্ত্রী পদমর্যাদায় বাকি উপদেষ্টারা হলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাবেক সচিব মো. ইসমাঈল জবিউল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা করা হয়েছে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবীর, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদ উর রহমান, মাহদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদকে। তাঁদের মধ্যে শামসুল ইসলাম বিএনপির চেয়ারম্যানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন। রেহান আসিফ আসাদ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, তিনি বরেন্দ্র বহুমুখী প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা ড. আসাদুজ্জামানের ছেলে। মাহদি আমিন বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ছিলেন।

গত রাতেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

নতুন মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে আলোচিত সংযোজন খলিলুর রহমান। তিনি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন।

আলোচিত সংযোজন

 

নতুন মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে আলোচিত সংযোজন খলিলুর রহমান। তিনি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন। অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো উপদেষ্টা পরবর্তী সরকারের কোনো দায়িত্বে থাকেননি। খলিলুর রহমানকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে রাখা হয়েছে। যদিও নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর নিয়োগের সময় বিএনপির আপত্তি ছিল এবং তাঁর পদত্যাগও চেয়েছিল। কিন্তু তারেক রহমানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের লন্ডন বৈঠকের পর পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়। এর পর থেকে বিএনপির সঙ্গে খলিলুর রহমানের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে বলে আলোচনা আছে। তিনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন পরবর্তী সরকারেও থাকতে পারেন বলে কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন মহলে বেশ আলোচিত ছিল। এমন আলোচনার মধ্যে সদ্য গঠিত বিএনপির সরকারে খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জনকে পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জনকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের দায়িত্ব বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের নামসহ প্রচার করা হচ্ছে।

মন্ত্রিসভার তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রীর মধ্যে ৯ জন অতীতে মন্ত্রী ছিলেন। অর্থাৎ সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে তাঁদের। ৯ জন জীবনে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রী হয়েছেন। বাকি সাতজন অতীতে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন, কিন্তু মন্ত্রী ছিলেন না। ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর সবাই প্রথমবারের মতো এ দায়িত্ব পেয়েছেন। এর মধ্যে ২১ জন প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। একজন টেকনোক্র্যাট, বাকি দুজন অতীতে সংসদ সদস্য ছিলেন।

নতুন মুখের ভিড়

তারেক রহমান জীবনে প্রথম নির্বাচন করে প্রধানমন্ত্রী হলেন। নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আবদুল আওয়াল মিন্টু, মিজানুর রহমান (মিনু), খন্দকার আবদুল মোকতাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম (রিতা), শহীদ উদ্দীন চৌধুরী (এ্যানি), মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের (সুমন), দীপেন দেওয়ান, ফকির মাহবুব আনাম (স্বপন), সরদার সাখাওয়াত হোসেন (বকুল) ও শেখ রবিউল আলম।

তবে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ও নিতাই রায় চৌধুরী এরশাদ সরকারের সময় এবং আ ন ম এহসানুল হক মিলন ও আসাদুল হাবীব (দুলু) বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ছিলেন।

এর মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আওয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের মন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি আগেই আলোচনা ছিল। জহির উদ্দিন স্বপন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ছিলেন। তাঁকে দিয়েই এর যাত্রা শুরু হয় এবং অল্প দিনের মধ্যে মিডিয়া সেল আলোচিত ডিজিটাল প্রচারমাধ্যম হয়ে ওঠে। কাজের ফল হিসেবে তাঁকে মন্ত্রিপরিষদে রাখা হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

বিএনপির কুমিল্লা দক্ষিণের নেতা আমিন উর রশীদ সদর আসনে জয়ী হওয়ার মতো প্রার্থী ছিলেন। তাঁর জায়গায় মনিরুল হক চৌধুরী বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তখন আমিন উর রশীদ বিক্ষোভ করলেও বিদ্রোহ করেননি। প্রতিদান হিসেবে তাঁকে মন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) করা হয়েছে বলে আলোচনা আছে। ব্যবসায়ী জাকারিয়া তাহেরও কুমিল্লার নেতা।

নতুন মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন একসময় বিএনপিতে সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিএনপি তাঁকে বহিষ্কারও করেছিল। এবার তাঁকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়েছে। ঢাকা-১০ আসন থেকে নির্বাচিত শেখ রবিউল আলমকে মন্ত্রী করা হয়েছে। তাঁকে সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ও বড় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ নিয়েও কথা উঠেছে।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম (অমিত), মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন (টুকু), কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশীদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আবদুল বারী, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক, ইয়াসের খান চৌধুরী, ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহমেদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 40
  
  সর্বশেষ
পেশাজীবী ও সাংবাদিক মওদুদ শুভ্র’র মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি জারি, তবুও থেমে নেই ধারাবাহিক অপরাধ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে আঙ্গুর চাষে সফল এক ব্যাংক কর্মকর্তা
রামগতিতে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পি এল সির ৪২ তম বর্ষপূর্তি উৎযাপন
কিশোরগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১জন

Md Reaz Uddin Editor & Publisher
Editorial Office
Kabbokosh Bhabon, Level-5, Suite#18, Kawran Bazar, Dhaka-1215.
E-mail:manabadhikarkhabar11@gmail.com
Tel:+88-02-41010307
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-41010308