নিজস্ব প্রতিবেদক।। পেশাজীবী ও সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র দায়ের করা মামলার আসামি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একাধিক ফৌজদারি মামলায় (জি আর/সি আর) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকা সত্ত্বেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় তারা ধারাবাহিকভাবে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে কিছু ভুয়া প্রশাসনিক পরিচয় ব্যবহারকারী প্রতারক চক্রও রয়েছে, যারা আইন অমান্য করে উল্টো বাদীকে মামলার কার্যক্রমে বাধা প্রদান করছে এবং সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
মওদুদ শুভ্র জানান, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে প্রায় ৩৭টি অপরাধ সংঘটিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত অনুভূতিতে আঘাত, মানহানি, সাইবার হয়রানি, বিভ্রান্তি ছড়ানো, ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি প্রকাশ, অপহরণের চেষ্টা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র নিয়ে হামলা, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ নানা অপরাধ। এমনকি তার বাসার সামনে কাফনের কাপড় রেখে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
বাদীর দায়ের করা জি আর মামলা নং ৪১(৮৫০)/২৪ (তারিখ: ১৪ নভেম্বর ২০২৪)–এ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু আসামিরা আদালতের নির্দেশ অমান্য করে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া দস্যুতা সংক্রান্ত আরেকটি মামলা (এফআইআর-৫১, জি আর-৮১২; তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫)–এও আসামিরা পলাতক রয়েছে এবং কোনো মালামাল উদ্ধার হয়নি। দুটি মামলাই আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য হওয়ায় বাদী দ্রুত গ্রেপ্তার ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার অভিযোগ আমলে নিয়ে আইজিপি’র নির্দেশে কুমিল্লার পুলিশ সুপারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশ সুপার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ও কোতোয়ালি থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সম্প্রতি কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ একটি সি আর মামলা (নং ৬১৫/২৬, তারিখ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬) আমলে নিয়ে পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। মামলাটি দণ্ডবিধি ১৮৬০ সালের ১৪৩/৩২৩/৩০৭/৩৮৫/৩৬৫/৪২০/৫১১/৫০০/৩৭৯/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় রেকর্ড হয়েছে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদ আনোয়ার জানান, পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশে বাদীর বাসায় গিয়ে তদন্ত করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।