মোঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- বাংলাদেশে ভ্রমণ করতে এসে হারিয়ে যাওয়া জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবারের (Kirill Lander-Weber) ল্যাপটপ উদ্ধার করে তাঁর কাছে হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে উদ্ধার করা ম্যাকবুকটি পর্যটকের হাতে তুলে দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, বিপিএম। এ সময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিগণসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হারানো ল্যাপটপ উদ্ধারে নাটোর সদর থানা পুলিশ, নাটোর জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিচালিত অভিযান সফল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের প্রশংসা করেন আইজিপি। বিদেশি পর্যটকের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ায় নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনসুর রহমান এবং সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে আর্থিক পুরস্কারও প্রদান করেন তিনি।
নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে হারিয়ে যায় ল্যাপটপ ও ক্যামেরা
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জার্মান নাগরিক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার উদ্দেশ্যে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন। ভ্রমণের একপর্যায়ে গত ৭ অক্টোবর তিনি নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান। সেখান থেকে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।
নাটোর রেলওয়ে স্টেশনের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করার সময় তিনি নিজের ল্যাপটপ ও ক্যামেরা সেখানে রেখে পাশের একটি এটিএম বুথে টাকা উত্তোলন করতে যান। টাকা উত্তোলন শেষে ফিরে এসে তিনি দেখেন, তাঁর ল্যাপটপ ও ক্যামেরা আর সেখানে নেই। গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র হারিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি।
পরে তিনি নাটোর থানায় গিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চান এবং এ বিষয়ে লিখিত আবেদন করেন। হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপটিতে তাঁর গত ছয় মাসের কার্যক্রমের তথ্যসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষিত ছিল। ফলে ল্যাপটপটি হারিয়ে যাওয়া তাঁর জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সমন্বিত অভিযানে উদ্ধার হয় ম্যাকবুক
বিদেশি পর্যটকের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয় পুলিশ। হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ ও ক্যামেরা উদ্ধারে নাটোর সদর থানা পুলিশ, নাটোর জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা অনুসন্ধান অব্যাহত রাখেন। ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও সমন্বিত কার্যক্রমের একপর্যায়ে গত ১১ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে নাটোর সদর থানাধীন কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে জার্মান পর্যটকের হারিয়ে যাওয়া ম্যাকবুকটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পরবর্তীতে উদ্ধার করা ল্যাপটপটি আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটকের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। তবে হারিয়ে যাওয়া ক্যামেরাটির বিষয়ে দেওয়া তথ্যে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা পর্যটকের
হারানো ল্যাপটপ ফিরে পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার। বাংলাদেশে অবস্থানকালে তাঁর ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
একজন বিদেশি পর্যটকের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত সম্পদ উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেওয়ার এ ঘটনা বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে আইজিপির আর্থিক পুরস্কার
বিদেশি পর্যটকের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, হারানো ল্যাপটপ উদ্ধার এবং বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নাটোর সদর থানার ওসি মোঃ মনসুর রহমান ও সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির, বিপিএম।
এ সময় আইজিপি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ এবং দলগত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে জনগণের আস্থা অর্জন করা পুলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশনা
অনুষ্ঠানে আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের সব ইউনিটকে দ্রুত, আন্তরিক ও পেশাদার পুলিশি সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানুষের আস্থা অর্জন, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং জনমুখী পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে সমন্বিতভাবে কাজ করার মাধ্যমে নাগরিকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সেবাপ্রার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশি পর্যটকের হারানো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেওয়ার এ ঘটনা বাংলাদেশের পর্যটন খাতের প্রতি ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দেশি-বিদেশি নাগরিকদের আস্থা বৃদ্ধিতেও এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।