মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা:- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সম্প্রতি নতুন এক সাংবিধানিক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার পর প্রশ্ন উঠেছে— দলীয় সদস্যপদ হারালে কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার সংসদ সদস্য (এমপি) পদও বাতিল হয়ে যাবে?
সংবিধানে কী বলা আছে?
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য যদি:
১. নিজের দল থেকে পদত্যাগ করেন, অথবা
২. সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দান করেন—
তবেই তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো রাজনৈতিক দল কাউকে বহিষ্কার করলে তা ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় পড়ে না। দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সংসদ সদস্য পদে বহাল থাকতে পারেন, কারণ সংবিধানে বহিষ্কারকে পদ বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
অতীতের নজির ও প্রক্রিয়া
সংবিধান অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদ বাতিল না হলেও কিছু প্রশাসনিক নিয়ম রয়েছে:
- লতিফ সিদ্দিকীর নজির: অতীতে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকে বহিষ্কারের পর স্পিকারের কাছে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তার এমপি পদ বাতিল হয়।
- এইচ এম গোলাম রেজার নজির: নবম জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এইচ এম গোলাম রেজাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে না জানানোর কারণে তার সংসদ সদস্য পদ বহাল ছিল।
অর্থাৎ, স্পিকারের কাছে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে শুধু দল থেকে বহিষ্কার করলেই সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয় না।
জামায়াত ও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানান:
"আমরা গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছি এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানিয়েছি। ইসি বিষয়টি স্পিকারকে জানাবে। আমরা কাউকে দল থেকে বহিষ্কার করতে পারি, কিন্তু সরাসরি এমপি পদ থেকে বহিষ্কার করতে পারি না।"
অন্যদিকে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, জামায়াত থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের বিষয়ে তারা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাননি। তাই চিঠি না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
সামনে কী হতে পারে?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে কয়েকটি সম্ভাবনা রয়েছে:
- দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল থাকতে পারেন।
- বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি স্পিকারের ব্যাখ্যা বা আদালতের আইনি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে পারে।
- রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে নতুন সিদ্ধান্তও আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, দল থেকে বহিষ্কার হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমপি পদ বাতিল না হলেও স্পিকারের সিদ্ধান্ত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে নাকি শূন্য হবে।