মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা:- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের নবনিযুক্ত ডিন অধ্যাপক আইনুল ইসলামকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে ছাত্রদল ও জাতীয় ছাত্রশক্তির বিক্ষোভের মুখে ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণী
গত ১২ জুলাই অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আইনুল ইসলামকে দুই বছরের জন্য সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর অপসারণের দাবিতে ডিন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর প্রক্টরের উপস্থিতিতে অধ্যাপক আইনুল ইসলাম অফিস ও ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব শাহিন মিয়া জানান:
"অধ্যাপক আইনুল ইসলামের জুলাই আন্দোলনবিরোধী অবস্থান এবং ৩ আগস্ট গণভবনের বৈঠকে অংশগ্রহণের স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এসব বিষয়ে তাঁর কাছে জবাব চাওয়া হলে তিনি কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। আমরা মনে করি, জুলাইয়ের চেতনার বিপরীতে অবস্থান নেওয়া কোনো ব্যক্তির বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।"
ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল আউয়াল বলেন, "আজকের ঘটনার পর অধ্যাপক আইনুল ইসলামকে প্রক্টর ও কয়েকজন শিক্ষক নিরাপদে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁকে আপাতত ক্যাম্পাসে না আসার জন্য বলা হয়েছে।"
শিক্ষার্থীদের পূর্ব ক্ষোভ
বুধবারই ফেসবুকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস শেখ। তিনি লিখেন, দুই বছর আগে এই ১৬ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নীলদলের কিছু শিক্ষক, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলার শিকার হয়ে তিনি নিজে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, যাকে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে দেখা গেছে, তাকেই প্রশাসন ডিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপক আইনুল ইসলাম বলেন:
"আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর অনেকগুলোই পুরনো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গণভবনের বৈঠকে আমি তৎকালীন রেজিস্ট্রার হিসেবে প্রশাসনের নির্দেশেই গিয়েছিলাম। অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য খতিয়ে দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।"
উপাচার্য ও প্রক্টরের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, "উপাচার্যের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। প্রক্টর আধা ঘণ্টা পর এসে ওদের কিছু না বলে আমাকেই চলে যেতে বললেন। পরে অবশ্য তারা আমাকে এগিয়ে দিয়েছেন।"
পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ডিন হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পরপরই তিনি পদত্যাগের কথা ভাবলেও বর্তমান পরিস্থিতির পর তিনি সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং প্রশাসন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে তিনি আগামী রোববার থেকেই নিয়মিত ক্যাম্পাসে ফিরবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রক্টরের বক্তব্য
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, ৩ আগস্ট শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে বৈঠক করার অভিযোগে কয়েকটি ছাত্র সংগঠন অধ্যাপক আইনুলের বিরুদ্ধে স্মারকলিপি দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে জুলাই শহীদ দিবস পালনের সময় শিক্ষকরা ফোন করে ঘটনাটি জানালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে নিরাপদে ক্যাম্পাস ত্যাগে সহায়তা করেন।