মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা:- সরকারি চাকরিজীবী, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নতুন বেতন-ভাতা ও আর্থিক সুবিধা নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে `জাতীয় वेतन কমিশন-২০২৫` এর সুপারিশ চূড়ান্ত রূপ পেতে যাচ্ছে।
১. বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়সমূহ
সচিব কমিটির বিগত বৈঠকগুলোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো উন্নত করার লক্ষ্যে অত্যন্ত বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কমিটির একজন সদস্যের সূত্রে জানা গেছে, প্রধান প্রধান আলোচনার ক্ষেত্রগুলো ছিল নিম্নরূপ:
- গ্রেডভিত্তিক বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণ।
- বর্তমান মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনা করে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে বেতনের সামঞ্জস্য বিধান।
- বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতাসহ বিভিন্ন প্রকার ভাতার যৌক্তিক সংস্কার।
- পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী সুযোগ-সুবিধা আরও বাস্তবসম্মত ও যুগোপযোগী করা।
২. প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধি ও বৈষম্য দূরীকরণ নীতি
বৈঠকে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন না বাড়িয়ে, নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সম্ভাব্য বেতন বৃদ্ধির হার নিম্নরূপ:
- ১ম থেকে ৯ম গ্রেড (উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা): ৬০ – ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।
- ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড (নিম্ন গ্রেডের কর্মচারী): ৯০ – ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।
৩. জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এর মূল সুপারিশসমূহ
সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার `জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫` গঠন করেছিল। এই কমিশন সরকারের কাছে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো নিম্নরূপ:
- সর্বনিম্ন বেতন স্কেল: বিদ্যমান ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব।
- সর্বোচ্চ বেতন স্কেল (ধাপ): বিদ্যমান ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব।
- বৈশাখী ভাতা: বর্তমানের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ।
- যাতায়াত ভাতা: ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছিল।
৪. পরবর্তী প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়ন
সচিব কমিটি নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে সরকারের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশমালা তৈরি করবে। এরপর এই সুপারিশসমূহ আগামী সপ্তাহে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভা চাইলে এই সুপারিশে যেকোনো ধরণের পরিবর্তন, সংযোজন বা বিয়োজন করতে পারবে। মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করবে এবং এরপরই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে।
কর্মচারীদের প্রতিক্রিয়া
আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে জানান, দীর্ঘ সময় পর নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়ন হতে চলায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশা—শুধুমাত্র মূল বেতন বৃদ্ধিই নয়, বরং মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাতা, পেনশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধারও যেন একটি বাস্তবসম্মত সংস্কার নিশ্চিত করা হয়।