মোঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা:- দেশের ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুখবর। তাঁদের একটি বড় অংশকে রেশনের আওতায় আনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মতি মিলেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অর্থ বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
কারা পাবেন এই রেশন সুবিধা?
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এই রেশন সুবিধা পেতে যাচ্ছেন।
- ১২তম গ্রেডের পদসমূহ: অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, হিসাব সহকারী বা ক্যাশিয়ার, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, গুদামরক্ষক, নিরাপত্তা পরিদর্শক, ডাটা এন্ট্রি সুপারভাইজার, অডিটর এবং জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টরসহ সমমানের পদ।
- ২০তম গ্রেডের পদসমূহ (চতুর্থ শ্রেণী): সাধারণত এসএসসি বা সমমান শিক্ষাগত যোগ্যতার এই স্তরে রয়েছেন অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী বা নৈশপ্রহরী, পিয়ন, মালী এবং ঝাড়ুদার বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী।
উদ্যোগের পটভূমি ও বর্তমান অগ্রগতি
গত ৩ মে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক প্রথম এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি জানান, মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা তীব্র আর্থিক সংকটে ভুগছেন, যা তাঁদের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পরবর্তীতে গত জুন মাসে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অর্থ বিভাগের সচিবকে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, এই প্রক্রিয়াটি স্বল্প, মধ্য নাকি দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে, তা অর্থ বিভাগ প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এবং প্রতি তিন মাস অন্তর বৈঠকের মাধ্যমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করবে।
বর্তমানে কারা রেশন পাচ্ছেন?
বর্তমানে সরকারি নির্ধারিত সুলভ মূল্যে দেশের ১০টি প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা রেশন সুবিধা পেয়ে থাকেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী), বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
প্রাসঙ্গিক তথ্য: উদাহরণস্বরূপ, পুলিশ বাহিনীতে চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য মাসিক রেশন বরাদ্দে সাধারণত ২০ কেজি চাল, ২০ কেজি আটা, ২ কেজি ডাল, সাড়ে ৪ লিটার সয়াবিন তেল এবং ২ কেজি চিনি দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "রেশন সুবিধা দেওয়ার এই প্রস্তাবটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে এটি কর্মচারীদের জীবনযাপন সহজ করবে এবং দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা কমাবে।"
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, রেশন বিতরণ ব্যবস্থা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম হলে কিংবা প্রকৃত উপকারভোগীরা সুবিধা না পেলে এই মহৎ উদ্যোগের উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।