মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা:- মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের দিয়ে আগামী দিনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে চান পদপ্রত্যাশীরা। সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান। হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের ওপর তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সব স্তরের নেতাকর্মীদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষে নতুন কমিটির পদপ্রত্যাশী ও শীর্ষ আলোচনায় থাকা কয়েকজন নেতার পরিচিতি এবং তাদের বক্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো:
শীর্ষ আলোচনায় থাকা কয়েকজন নেতা
- মমিনুল ইসলাম জিসান: ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থী বিগত আওয়ামী লীগ আমলে একাধিকবার মামলা, হামলা ও কারাবরণের শিকার হন। ২০২৩ সালে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন এবং জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- আমান উল্লাহ আমান: ছাত্রদলের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থী। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ২৮ অক্টোবরের পরবর্তী আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়ে দুই মাস কারাবরণ করেন এবং রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হন। ৫ আগস্টের পর সংগঠনকে সুশৃঙ্খল করতে এবং ইতিবাচক রাজনীতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন।
- শরীফ প্রধান শুভ: বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদায় প্রচার সম্পাদক। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এই ছাত্র পূর্বে কেন্দ্রীয় সংসদের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন। ২০১১ সালের ২৪ মার্চ রাতে ছাত্রলীগের মারধরে তার একটি হাত ভেঙে যায় এবং হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর নয়া পল্টনে বিএনপির সমাবেশ থেকে গ্রেপ্তার হয়ে ছয় মাস কারাগারে ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম দিন থেকেই তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
- গণেশ চন্দ্র রায় সাহস: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন্দ্র ঘোষিত সব কর্মসূচি সফল করতে তিনি অগ্রভাগে থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
যা বলছেন পদপ্রত্যাশী ও বর্তমান নেতারা
নতুন কমিটি গঠন প্রসঙ্গে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান বলেন:
"সংগঠনের নেতাকর্মীরা নতুন কমিটির জন্য, নতুন জুলাইয়ে, নতুন সরকারের কাছে মুখিয়ে রয়েছেন। নতুন কমিটির নেতৃত্বে দেশ গড়ায় অংশ নেবে ছাত্রদল। তৃণমূলের সহযোদ্ধারা আমাকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চান। দলের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক অভিভাবক, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর আমার অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেই আলোকে কাজ করতে আমি সদা প্রস্তুত।"
সহ-সভাপতি ইজ্জাজুল কবির রুয়েল বলেন, নতুন কমিটি গঠনের দামামা বেজে গেছে এবং যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। তবে বর্তমান কমিটির কর্মসূচি আগামী ৩ তারিখ পর্যন্ত থাকায় ওই সময়ের পরেও ঘোষণা আসতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন:
"বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে রাজপথে অগ্রভাগে থেকে ভূমিকা রেখেছে। এখন দেশ গঠনের ক্ষেত্রে সংগঠন ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চায়।"
অন্যতম নেতা তৌহিদুর রহমান আউয়াল নতুন কমিটির আকার বা ধরন (সুপার ফাইভ বা অন্য কিছু) প্রসঙ্গে বলেন, সবকিছুই সাংগঠনিক অভিভাবকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তারেক রহমান যাদের সংগঠনের জন্য সবচেয়ে যোগ্য মনে করবেন, তাদেরই দায়িত্ব দেবেন এবং ছাত্রদলের সব নেতাকর্মী তার সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল।
নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, আন্দোলন-সংগ্রামে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে ছিলেন, তাদের মূল্যায়নের মাধ্যমেই ছাত্রদলের আগামী দিনের নতুন ও গতিশীল নেতৃত্ব তৈরি হবে।