| |
| শিশুকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে তিনজনের প্রাণদণ্ড দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড |
| |
|
|
|
|
|
|
|
| |
| |
|
| |
| |
| আদালত প্রতিবেদকঃ গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে মাহফুজ নামে এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে দুই ভাইসহ তিনজনকে প্রাণদণ্ড এছাড়া দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এ দন্ড দেন। মৃত্যু দন্ড প্রাপ্ত আসামি হলেন, জামাল শেখ, তার ভাই রঞ্জু শেখ ও শেখ শামীম আহমেদ। মাহমুদা খানম উষা ওবিল্লাল শেখ কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। মৃত্যু দন্ড প্রাপ্ত প্রত্যাককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন “এটি কেবল একটি হত্যা মামলা নয়; বরং মানুষের রূপধারী কিছু অপরাধীর হিংস্রতার শিকার এক নিষ্পাপ শিশুর মর্মান্তিক পরিণতির দলিল। শবে বরাতের পবিত্র রাতে নামাজ পড়তে বের হওয়া আট বছরের মাহফুজকে অপহরণ করে মুক্তিপণের লোভে প্রায় দেড় মাস আটকে রাখা হয়। পরে অর্থ না পেয়ে নির্মমভাবে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ মেহগনি বাগানে ফেলে দেওয়া হয়।আদালত আরো বলেছে, এ ধরনের নৃশংস ও পাশবিক অপরাধ সমাজে আর কেউ যাতে করার সাহস না পায়, সেজন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়েছে।মামলার অভিযোগ থেকে জানাযায়, ২০১২ সালের ৫ জুলাই শবে বরাতের রাতে কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের বাড়ি থেকে ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ে জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় অপহরণের শিকার হয় ইতালিপ্রবাসী রেজাউল ইসলামের ৮ বছরের ছেলে মাহফুজ। পরদিন মাহফুজের পরিবারকে ফোন করে ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মাহফুজের মা স্বপ্না বেগম কাশিয়ানী থানায় এ মামলাটি করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ অপ্রাপ্ত বয়স্ক দুজনকে আটক করে আদালতে হাজির করলে তারা পারিবারিক শত্রুতার জেরে মাহফুজকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে। গলায় ফাঁস দিয়ে তারা মাহফুজকে হত্যা করে বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে। দীর্ঘ ৪৫ দিন অপহরণের পর আটকে রেখে শিশুটিকে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। ২০ অগাস্ট ঈদের দিন রাতের বেলা শিশুটির লাশ বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় ২১ অগাস্ট স্বপ্না বেগম সম্পূরক এজাহার দায়ের করেন।কাশিয়ানী থানার এসআই নিজাম শিকদার মামলাটি তদন্ত শেষে একই বছরের ২০ নভেম্বর ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার সিদ্ধান্তে মামলাটি ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি মামলার অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ২৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
|
| |
|
|
|