আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:- কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার সীমান্তের গয়টাপাড়া এলাকায় নো-ম্যান্স ল্যান্ডে দুই শিশু সন্তানকে বুকে জড়িয়ে টানা ৭৮ ঘণ্টা মানবেতর অবস্থায় কাটাচ্ছেন মোছাঃ সুমি আক্তার (২৮)। রোববার ভোর থেকে তিনি স্বামী মোঃ বেলাল হোসেন ও দুই সন্তান-চার বছরের ফাতেমা এবং পাঁচ মাস বয়সী সুমাইয়া-সহ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে আছেন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, কাজের খোঁজে কয়েকদিন আগে পরিবারটি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। পরে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের আটক করে। এরপর বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও পরিচয়পত্র না থাকায় তারা বাংলাদেশে প্রবেশও করতে পারেননি। ফলে দুই দেশের মাঝখানের শূন্য রেখায় তারা আটকে পড়েন।
মোছাঃ সুমি আক্তারের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার কংশেরকুল গ্রামে। ছয় বছর আগে বিয়ে হয় মোঃ বেলাল হোসেনের সঙ্গে। মঙ্গলবার বিকেলে নিরাপদ দূরত্বে কথা হয় মোছাঃ সুমি আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, `বাচ্চাগুলোর কষ্ট সবচেয়ে বেশি লাগছে। রোদে পুড়ছে, রাতে ভিজছে। জানি না কী হবে।`
বিজিবি সূত্র জানায়, রোববার ভোরে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে মোট নয় জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা প্রতিহত করা হয়। এরপর থেকেই তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। সীমান্তে আটকে পড়া এই পরিবারকে মানবিক সহায়তা হিসেবে খাবার, পানি ও ছাতা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীলরা।
জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ হাসানুর রহমান বলেন, বিষয়টি সমাধানে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।