মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় বন বিভাগের এক সফল অভিযানে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা ১টি উল্লুক ও ১২টি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্য প্রাণী পাচারের অভিযোগে মো. হাদিস রহমান (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে চকরিয়া জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ফারহান সাদিক অপরাধীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
যেভাবে চালানো হয় অভিযান
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে বন্য প্রাণী সংগ্রহ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করে আসছিল। গত সোমবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন বিভাগের একটি দল চকরিয়া উপজেলার ভাঙারমুখ বাজার এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। ওই বাড়ি থেকেই পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা ১২টি কচ্ছপ ও ১টি উল্লুক উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে হাদিস রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।
আসামির পরিচয়
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. হাদিস রহমান ঢাকার মিরপুর ১১ এলাকার সুলতান মিয়ার ছেলে। বন বিভাগের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বন্য প্রাণী পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং মূলত পাচারের উদ্দেশ্যে বন্য প্রাণী সংগ্রহ করতেই তিনি চকরিয়ায় এসেছিলেন।
আইনগত ব্যবস্থা ও আদালতের রায়
অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া চুনতি বন্য প্রাণী ও অভয়ারণ্য রেঞ্জের কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ জানান, বন্য প্রাণী শিকার, হত্যা, আটক, কেনাবেচা ও পাচার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। উদ্ধারকৃত বন্য প্রাণীগুলো পাচারের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছিল।
এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়। গত মঙ্গলবার উদ্ধার হওয়া বন্য প্রাণীসহ আসামিকে চকরিয়া আদালতে তোলা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
বন্য প্রাণীর বর্তমান অবস্থা
আদালতের নির্দেশ মোতাবেক উদ্ধার হওয়া উল্লুক ও কচ্ছপগুলোকে বর্তমানে চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতেj এগুলোকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বনে অবমুক্ত করা হবে বলে বন বিভাগ নিশ্চিত করেছে।