মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় এক ভয়াবহ ডাকাতি ও পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতি শেষে এক গৃহবধূ এবং তাঁর ১৫ বছর বয়সী কিশোরী মেয়েকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৮ জুন ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যেই ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী চট্টগ্রাম নগরে চাকরি করেন। বাড়িতে তিনি তাঁর ১৫ বছর এবং ৭ বছর বয়সী দুই মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল তাঁদের ঘরের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ডাকাতরা ঘরের আলমারি ভেঙে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে। এরপর তারা ওই গৃহবধূ ও তাঁর কিশোরী মেয়েকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর ছোট ভাই সেখানে যান। তিনি জানান:
"ডাকাত দল চলে যাওয়ার পর খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই। তখন আমার বোন ও ভাগনি জড়সড় হয়ে দুজন দুটি কক্ষে বসে ছিলেন। ঘটনার বর্ণনা শুনে তাঁদের উদ্ধার করে রাত চারটার দিকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে দুজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।"
আটককৃতদের পরিচয়
এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করেছে। আটককৃত ব্যক্তিরা সবাই একই উপজেলার বাসিন্দা। তাদের নাম ও বয়স নিচে দেওয়া হলো:
- রেজাউল করিম (৩৬)
- তোফাজ্জল হোসেন (২৩)
- কেফায়েত হোসেন (২৭)
- মোহাম্মদ তানজিদ (২৪)
- মেহেদী হাসান (২৪)
- মোহাম্মদ তারেক (২৬)
পরিবারের দাবি ও ক্ষোভ
ভুক্তভোগী গৃহবধূর ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
"এমন বর্বর ঘটনা এ এলাকায় আগে ঘটেনি। কারও কাছেও শুনিনি। আমার মেয়ে ও নাতনির ওপর যারা পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করে ফাঁসি দেওয়া হোক। আর কোনো চাওয়া নেই।"
পুলিশের বক্তব্য ও পদক্ষেপ
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "পুলিশ ভোরে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করেছে। এর মধ্যে চারজনকে ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে শনাক্ত করেছেন।" অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।