মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- রবিবার (৭ জুন, ২০২৬) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন, ভোট চুরি ও গণহত্যার মতো অপকর্মের বৈধতা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত সাংবাদিকরা কোনোভাবেই আইনের ঊর্ধ্বে নন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এদিন বিকাল ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
ঘটনার সূত্রপাত
অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বিগত ১৭ বছরে দেশের গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে একটি সম্পূরক প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা অবশ্যই প্রয়োজন। তবে আওয়ামী লীগ আমলে কিছু সাংবাদিক গুম, খুন, ভোট চুরি, ব্যাংক লুট ও গণহত্যার পক্ষে ‘সম্মতি উৎপাদন’ করেছিলেন।
এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন,
"আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগী কিছু গণমাধ্যম ও সাংবাদিককে বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। অপরদিকে, জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের সাংবাদিকদের অনেক ক্ষেত্রে গণমাধ্যম থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।"
এই বিষয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান কী, তা তথ্য প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চান তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর রসাত্মক ও দৃঢ় জবাব
সংসদ সদস্যের দীর্ঘ প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী প্রথমে কিছুটা রসিকতার সুরে বলেন, "মাননীয় সংসদ সদস্য একটি প্রশ্ন করলেন, নাকি কয়েকটি প্রশ্ন করলেন—আমরা সেই ট্র্যাকটাই হারিয়ে ফেলেছি।"
তবে পরে মূল জবাবে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে সরকারের `জিরো টলারেন্স` নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,
"দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রয়েছে। তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যারা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার বিপক্ষে কাজ করবে, গণতন্ত্র ধ্বংস করবে বা সন্ত্রাসের পক্ষে অবস্থান নেবে, সে যেই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে নয়।"
আইনের চোখে সবাই সমান
তথ্য প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, অপরাধী যদি সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী কিংবা চাকুরিজীবী—যেই হোক না কেন, কেউ পার পাবে না। কেউ আইনের পরিপন্থী কাজ করলে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ও প্রধানমন্ত্রীর অধীন এই সরকার তার বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।