খোকন মাহমুদ মানবাধিকার খবর ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রতিনিধি: ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার। শুনলে আপনার গায়ের লোম শিউরে উঠবে
হোসেন নামের এক কিশোর, যে প্রতিদিন সকালে ফুল বিক্রি করে জীবন চালাতো। গত ১৮ এপ্রিল
সকালে সে ফুল বিক্রি করতে বের হয়, কিন্তু আর ঘরে ফেরেনি। পাঁচ দিন পর, ২৩ এপ্রিল
ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর ব্যাংক কলোনির একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়
তার ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহ।
তাকে কারা হত্যা করেছে জানেন কোনো পেশাদার খুনি নয়, তার নিজেরই ৬ জন কিশোর বন্ধু!
হত্যার কারণ জানলে আপনি স্তব্ধ হয়ে যাবেন। পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি
জানিয়েছেন এই কিশোরেরা একসাথে আড্ডা দিতো আর গাঁজা সেবন করতো। তাদের
ধারণা ছিল,অপ্রাপ্তবয়স্কদের তো আর ফাঁসি বা বড় শাস্তি হয় না তাই শুধুমাত্র
‘জেলখানা ভেতর থেকে দেখতে কেমন হয় এই বিকৃত কৌতূহল মেটাতে এবং জেলে
যাওয়ার অভিজ্ঞতা নিতে তারা মানুষ খুনের মতো ভয়ংকর পরিকল্পনা করে
প্রলোভন দেখিয়ে সহজ-সরল হোসেনকে সেই পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায় তারা। এরপর
আনন্দ-উল্লাসের ভান করতে করতে, হাসতে হাসতে আপন বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে
নির্মমভাবে হত্যা করে
হয়তো এই জঘন্য অপরাধের কথা অজানাই থেকে যেত। কিন্তু খুনিদের একজন, ইউনুস, মোবাইলে
এই হত্যার কথা আরেকজনকে গর্ব করে বলছিল। আশপাশের মানুষ সেটা শুনে ফেলে তাকে
আটকে পুলিশে দেয়। এরপর তার স্বীকারোক্তিতে বরিশালসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান
চালিয়ে বাকি ৫ জনকেও গ্রেপ্তার করা হয়। অবাক করা বিষয় হলো, এই ৬ জন খুনির সবার
বয়স ১৮ বছরের নিচে!
প্রিয় অভিভাবক, আপনার কাছে একটি বিনীত অনুরোধ আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে? কাদের
সাথে মিশছে? আড্ডার নামে তারা কোনো মাদকের নেশায় জড়াচ্ছে কিনা এখনই নজর রাখুন।
কিশোর অপরাধ, মাদকের ভয়াল থাবা, আইনের ভুল ধারণা আর চরম সামাজিক অবক্ষয় আজ
আমাদের ঘরের দরজায় কড়া নাড়ছে। স্মার্টফোন আর বন্ধু-বান্ধবের আড়ালে আপনার
আদরের সন্তানটি কোনো অন্ধকার জগতে পা রাখছে না তো
আজ হোসেনের মায়ের কোল খালি হয়েছে, কাল যে অন্য কারো হবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
আল্লাহ না করুক, দেশে কখন কী চলতেছে বলা যায় না।
আসুন, আমরা সচেতন হই। সন্তানদের শুধু বড় করলেই হবে না, তাদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়া
এবং সময় দেওয়াটা আজ সবচেয়ে বেশি জরুরি। আল্লাহ আমাদের সব সন্তানকে সঠিক পথে
রাখুন এবং এমন ভয়ংকর পরিণতি থেকে হেফাজত করুন। আমিন।