বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২৯, ২০২৪
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * ৭নং ওয়ার্ডে এনজিও সংস্থা প্রত্যাশী এর সেমিনার অনুষ্ঠিত ;   * কক্সবাজারে রেলের টিকিট নিয়ে প্রতারণা, পথে রাত কাটালেন ৯ পর্যটক   * এপ্রিল থেকে চট্টগ্রাম শহরে চালু হচ্ছে ট্যাক্সিক্যাব সেবা   * কুড়িগ্রামের ধরলা-বারোমাসিয়া নদী এখন বিস্তৃন্ন ফসলের মাঠ   * চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ‘বাইডেন-জয়ার’ ঘরে তিন শাবকের জন্ম   * অস্ট্রেলিয়া থেকে চট্টগ্রামে হাজিরা, ঢাকায় বসে ডাক্তারের সাক্ষ্য   * ফ্রেন্ডশীপ এনজিও তে প্রথম আলোর সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া কে এই সাজিদ চৌধুরী?   * চমেবি ভিসির নেওয়া অতিরিক্ত বেতন-ভাতা ফেরত দিতে বললো ইউজিসি   * কুড়িগ্রামে ৯ বছর পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না রফিকুলের   * টানা বন্ধে খাগড়াছড়িতে পর্যটকের ঢল  

   পর্যটন
পর্যটকদের জনপ্রিয় স্থান বিশ্বখ্যাত নায়াগ্রা জলপ্রপাত
  Date : 15-10-2019

খুকু খালেদ :
নায়াগ্রা জলপ্রপাতের কথা পৃথিবীর কম বেশি সবার জানা। পানি প্রবাহের দিক দিয়ে পৃথিবীর বৃহত্তর জলপ্রপাত এটি। আমেরিকা ও কানাডার আন্তর্জাতিক সীমানায় অবস্থিত এই জলপ্রপাত। নায়াগ্রা নদীরতে অবস্থিত বলে এর নাম নায়াগ্রা জলপ্রপাত। স্থানীয় ভাবে একে অংগিয়ারা বলে। অংগিয়ারার অর্থ জলরাশির বজ্রধনী। এতটাই প্রবল এর শব্দ যে অন্য কোন শব্দ এর কাছে গৌন।
তিনটা ছোট বড় প্রপাত নিয়ে এই বিশাল জলরাশির সৃষ্টি । এর মধ্যে কানাডার জলরাশিকে বলা হয় হর্স শু। এই জলরাশির নববই ভাগ জল এই হর্স শু দিয়ে প্রবাহিত হয়। উপর থেকে দেখলে একে ঘোড়ার খুরের মতন লাগে তাই একে হর্স শু বলে। এই হর্স শু অংশ ১৬৭ ফুট উঁচু ও ২০০০ ফুট চওড়া । আমেরিকার অংশকে বলে আমেরিকান ফলস্। ১০০ ফুট উঁচু ও ৯৫০ ফুট চওড়া । তৃতীয় টি ব্রাইডাল ভেইল ফলস্। এটি ৭৮ ফুট লম্বা ও৫৬ ফুট চওড়া। এটি আমেরিকার অংশে।
দশ হাজার বছর আগে একাধিক লেকের সমষ্টি দি গ্রেট লেক অঞ্চলটি ছিল বরফে আবৃত। তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে সাথে এর বরফ গলতে শুরুকরে এবং লেক ইরি ও লেক অন্টারিও থেকে প্রবাহিত বিপুল পরিমাণ জলরাশি নায়াগ্রা তে পতিত হয়ে এই জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়। গ্রীষ্ম ও বসন্তে জলরাশি ভয়ংকর রুপ ধারন করে এবং দর্শনার্থীদের ভিড় বেশী হয় এই সময় । সমগ্র পৃথিবীর মিঠা পানির বিশ ভাগ এই দি গ্রেট লেকে এ মজুত । আর এই পানি নায়াগ্রা ফলস্ দিয়ে প্রবাহিত হয় । সৌন্দর্য ও বিশালতার পাশাপাশি এটা ভংয়করও বটে। প্রতি মিনিটে ৪০ লাখ ঘনফুট পানি প্রবাহিত হয় । এই জলরাশি থেকে দুই দেশ জলবিদ্যুত্ উৎপনন করে। কানাডার অংশ থেকে এই জলপ্রপাতের পুরো সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। তবে বোটে করে ঘুরে জলরাশির নীচে পর্যন্ত গিয়ে পুরোটা খুব কাছ থেকে দেখার আনন্দই আলাদা । হেলিকপ্টার রাইডেও উপর থেকে ঘুরে দেখা যায়। মেইড অব দি মিসট নামের ক্রুজে চড়ে জলপ্রপাতের নীচ থেকে ঘুরে আসার সুন্দর সুযোগ আছে। প্রতি বছর শীতে এর পানি জমে বরফ হয়ে অল্প পরিমাণ পানি প্রবাহিত হয় । রাতের জলরাশিতে আলোকসজ্জা এক অপার্থিব সৌন্দর্য সৃষ্টি করে। বছরে তিন কোটি লোক এই জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করে। ১৮৪৮ সালের মার্চে পুরো জলপ্রপাত বরফে জমে যায় এবং ঐ সময় একবার ৪০ ঘন্টা পানি প্রবাহিত হয়নি। এই জলপ্রপাতের একটা রহস্য হচ্ছে এর পানি নীচে পতিত হয়ে কোথায় যায় এটা কেউ বের করতে পারেনি। নীচে পড়ে নদী দিয়ে দূরে কোথায় চলে যায় এমন না। শুধু নীচে পড়ে এরপর কি হয় কেউ জানেনা। যদিও অনেকের ধারনা এই পানি চক্রাকারে ঘুরে কোন এক অজানা দিক দিয়ে আবার উপরে যেয়ে নীচে পড়ে ।
নায়াগ্রা জলপ্রপাত-এক অপার বিস্ময়ের নাম :
পৃথিবীতে এমন অনেক কিছু আছে, যা দেখে আমাদের মনে বিস্ময় জাগে। নায়াগ্রা জলপ্রপাত এদের মধ্যে অন্যতম। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত এটি। বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নায়াগ্রা জলপ্রপাত প্রকৃতির এক মহাবিস্ময়। এই জলপ্রপাতের নাম শোনেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ভ্রমণ পিপাসু সকল প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের কাছে নায়াগ্রা জলপ্রপাতটি একটি রোমাঞ্চকর স্থান।
এখানে গেলে যে কারো মনে হতে পারে এই বুঝি আকাশ ভেঙ্গে জগতের সব বৃষ্টি দানব আকার ধারন করে সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ছে। ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’ যেমন আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিতির চিহ্ন, ঠিক তেমনি ২৮ অক্টোবর ১৮৮৬ সালের আগে নায়াগ্রাই ছিল এখানকার প্রধান আকর্ষণ।
নায়াগ্রা জলপ্রপাত কোথায় অবস্থিত :
নায়াগ্রা জলপ্রপাতটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক এবং কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের মধ্যবর্তী আন্তর্জাতিক সীমানার ওপর অবস্থিত। জলপ্রপাতটি বিমান, সড়ক ও রেল পরিবহন মাধ্যম দ্বারা সু-সংযুক্ত হওয়ায় এই জলপ্রপাতে পৌঁছানো খুবই সহজ। এর নিকটবর্তী বিমানবন্দরগুলি হল- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাফেলোয় অবস্থিত বাফেলো নায়াগ্রা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কানাডার ওন্টারিওতে অবস্থিত লেস্টার বি. পিয়ারসন্ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। কানাডার, ওন্টারিও-তে অবস্থিত নায়াগ্রা জলপ্রপাতটি টরন্টো থেকে ১২৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
নায়াগ্রার উৎপত্তি :
ঙহমঁরধধযৎধ শব্দ থেকে নায়াগ্রা কথাটির উৎপত্তি যার অর্থ জলরাশির বজ্রধ্বনি। অনুমান করা হয়, আজ থেকে প্রায় দশ হাজার নয়শ বছর আগে এই জলপ্রপাতকে প্রথম চিহ্নিত করা হয়েছেছিল। আমেরিকাবাসীরা সম্ভবত এই জলপ্রপাত দর্শনকারী প্রথম মানুষ ছিলেন। যদিও এই জলপ্রপাতটির সম্পর্কে লিখিত আকারে উল্লেখিত প্রথম ইউরোপীয় ব্যাক্তিটি ছিলেন ফাদার ল্যুইস হেনেপিন। এই ফরাসি যাজক তাঁর “আ নিউ ডিসকভারি” নামক পুস্তকে এটির বর্ণনা করেছিলেন।
নায়াগ্রা ইতিহাস :
নায়াগ্রা জলপ্রপাতের উৎপত্তির ইতিহাসটা বেশ মজার। নায়াগ্রা নদীটি প্রায় ১২০০ বছরের পুরনো। এরও আগে ১৮০০ বছর পূর্বে ওন্টারিওর দক্ষিণে প্রায় ২ থেকে ৩ কিলোমিটার বরফে ঢাকা ছিল। সময়ের সাথে সাথে আর নিয়মিত গ্রীষ্মমন্ডলীয় পরিবর্তনের ফলে গলতে শুরু করে বরফ। আর গ্রেট লেকস বেসিনে প্রচুর পানি জমতে থাকে এবং লেক ইরি আর লেক ওন্টারিও থেকে আসা পানি মিলে নায়াগ্রা নদীতে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এই প্রপাতের সৃষ্টি হয়। এই বিশাল জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়।
নায়াগ্রার মোহময় আকর্ষণ :
জলপ্রপাতের দিকে তাকালে একদিকে যেমন ভয়ে আপনার বুক কেঁপে উঠে তেমনি কিছুতেই এর মোহময় আকর্ষণকে আপনি উপেক্ষা করতে পারবেন না। এই আকর্ষণই অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষকে টেনে আনে নায়াগ্রাকে ছুঁয়ে দেখার কিংবা তার উপর হেঁটে যাওয়ার এক অদম্য বাসনাকে। ১৮২৯ সালের অক্টোবরের দিকে ‘স্যামপেচ’ নামের এক দুঃসাহসী অভিযাত্রী ঝাঁপ দিয়েছিলেন নায়াগ্রায়। অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় এই যে, ঝাঁপ দেয়ার পরও এই ভদ্রলোক কিন্তু বেঁচে গিয়েছিলেন।
স্যামের এই অদ্ভুত কা- আরও অনেক মানুষকে দু:সাহসী করে তোলে। কেউ দড়ির উপর দিয়ে হেঁটে ভয়ংকর এই জলপ্রপাত পার হয়েছেছেন, কেউ নিজেদের একটা ব্যারেলে ভরে নিয়ে ভেসে গিয়েছেন জলপ্রপাতের উত্তাল জলগ্রোতের মধ্যে, ব্যারেলসুদ্ধ আছড়ে পড়েছেন ১৬৭ ফিট উচ্চতা থেকে। এদের নাম দেওয়া হয়েছেছিল ‘ফাঁনামবুলিস্ট’। ১৮৫৯ থেকে ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত এরকম উপায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় নায়াগ্রা পার হওয়া একটা নেশায় পরিণত হয়েছেছিল।
জলবিদ্যুৎ শক্তির উৎস :
শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, নায়াগ্রার পানির ¯্রােতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। প্রতিদিন প্রতি মিনিটে নায়াগ্রা জলপ্রপাত ৬০ লক্ষ ঘনফুট মাত্রাধিক জল প্রবাহিত করে। যার গড় পরিমাণ হল ৪০ লক্ষ ঘনফুট। নায়াগ্রা সমগ্র নিউইয়র্ক ও ওন্টারিও-র জলবিদ্যুৎ শক্তির এক অন্যতম প্রধান উৎস। অন্যান্য জলপ্রপাতগুলোর চেয়ে নায়াগ্রার ¯্রােত ঢের বেশি। নায়াগ্রা জলপ্রপাতের এই ¯্রােতকে কাজে লাগিয়ে প্রতি বছর ব্যাপক পরিমাণে তড়িৎ শক্তিও উৎপাদন করা হয়। নায়াগ্রা জলপ্রপাতে ¯্রােতের শব্দ এতটাই তীব্র যে, অন্য কোনো শব্দ, ¯্রােতের শব্দের কারণে কানে পৌঁছায় না।
পর্যটকদের বিশ্বখ্যাত স্থান :
আমেরিকায় নায়াগ্রা জলপ্রপাত বিখ্যাত এক পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটকদের কাছে এটি এক ভয়ংকর সুন্দর জলপ্রপাত। মূলত, অষ্টাদশ শতক থেকে এটি পর্যটন এলাকা হিসেবে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়তা পায়। এখানে প্রতি বছরে প্রায় ৩০ মিলিয়ন পর্যটক আসেন। এই মনোরম ও প্রাণবন্ত জলপ্রপাতটি পরিদর্শনের সেরা সময় হল বসন্ত ও গ্রীষ্মকাল। জলপ্রপাতের পাশাপাশি পর্যটকেরা ঘুরে আসতে পারবে প্রজাপতি ভা-ারে, যেখানে আছে দুই হাজারেরও বেশি প্রজাতির প্রজাপতি। পর্যটকেরা আরো যেতে পারেন নায়াগ্রার আ্যকোয়ারিয়াম, নায়াগ্রা সায়েন্স মিউজিয়াম, ওয়ার্লপুল স্টেট পার্ক, ডেভিল’স হোল স্টেট পার্ক, নায়াগ্রা আ্যডভেঞ্চার থিয়েটার এবং হাইড্ পার্ক।
নায়াগ্রা জলপ্রপাত প্রকৃতির এক অপার সৃষ্টি। ১৬৭ ফুট উঁচু এই জলপ্রপাত থেকে প্রতি সেকেন্ডে ৬৪ হাজার ৭৫০ ঘনফুট পানি নদীতে আছড়ে পড়ে। মেড অব দ্য মিস্ট নামের বোটটি জলপ্রপাতের পাড়ে সর্বদা অপেক্ষমান থাকে পর্যটকদের নায়াগ্রার অপার সৌন্দর্যের আরো সান্যিধ্যে নিয়ে যাবার জন্য। এখানে জলপ্রপাতের পানি পতনের কলকল গর্জন কানে মধুর সংগীতের মতো বাজে। সব মিলিয়ে জলপ্রপাতটি বিস্ময় আর রোমাঞ্চের এক অপরূপ সৌন্দর্যের সম্ভার।



  
  সর্বশেষ
৭নং ওয়ার্ডে এনজিও সংস্থা প্রত্যাশী এর সেমিনার অনুষ্ঠিত ;
কক্সবাজারে রেলের টিকিট নিয়ে প্রতারণা, পথে রাত কাটালেন ৯ পর্যটক
এপ্রিল থেকে চট্টগ্রাম শহরে চালু হচ্ছে ট্যাক্সিক্যাব সেবা
কুড়িগ্রামের ধরলা-বারোমাসিয়া নদী এখন বিস্তৃন্ন ফসলের মাঠ

Md Reaz Uddin Editor & Publisher
Editorial Office
Kabbokosh Bhabon, Level-5, Suite#18, Kawran Bazar, Dhaka-1215.
E-mail:manabadhikarkhabar11@gmail.com
Tel:+88-02-41010307
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-41010308