মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা:- চট্টগ্রাম নগরীতে অভিযান চালিয়ে ২৮ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ মো. জালাল উদ্দীন (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) উত্তর। গ্রেপ্তার জালাল উদ্দীনের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায়। অভিযানে উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিএমপির ডিবি (উত্তর) বিভাগের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান
পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) টিম-০২ ও স্পেশাল টিম-০২-এর সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে করে এক মাদক কারবারি মাদকদ্রব্য নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর দিকে আসছেন।
এ তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি (উত্তর) বিভাগের একটি আভিযানিক দল নগরীর বাকলিয়া থানাধীন রাজাখালী এলাকায় জিরার্ড ফ্যাশন গার্মেন্টসের বিপরীত পাশে নাহার স্কেলের সামনে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে।
পরবর্তীতে ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৭৯৫৪ নম্বরের হানিফ এন্টারপ্রাইজের বাসটি সেখানে পৌঁছালে পুলিশ বাসটিতে তল্লাশি চালায়। এ সময় সন্দেহভাজন যাত্রী মো. জালাল উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
লোহার তৈরি হাইড্রোলিক জগের ভেতরে ইয়াবা
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার জালাল উদ্দীন (৪৪) কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার উত্তর ডেইল পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম মৃত হাসেম। তিনি টেকনাফের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তল্লাশির একপর্যায়ে তাঁর দেখানো মতে বাসের মালামাল রাখার বক্সে থাকা একটি লোহার তৈরি হাইড্রোলিক জগের ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে মোট ২৮ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা জব্দ করেন অভিযানে অংশ নেওয়া গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা।
উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৮৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছিল বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগেও মাদক আইনে মামলা রয়েছে
ডিবি পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গ্রেপ্তার মো. জালাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে।
এর মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল থানায় ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট মামলা নম্বর ০৭ দায়ের করা হয়েছিল। মামলাটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় করা হয়।
এ ছাড়া কক্সবাজার সদর থানায় ২০১৭ সালের ৯ জুলাই মামলা নম্বর ৩৮ দায়ের করা হয়েছিল। ওই মামলাটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০-এর ১৯(১) ধারার ৯(খ)/২৫ ধারায় রুজু করা হয় বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত
চট্টগ্রাম নগরীতে মাদক পরিবহনের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের এ ঘটনায় মাদকদ্রব্যের অবৈধ পরিবহন ও সরবরাহের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
উদ্ধার করা ইয়াবার উৎস, পরিবহনের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কি না এবং মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তদন্তে কী তথ্য পাওয়া যায়, তা পরবর্তী সময়ে জানা যেতে পারে।
সূত্র: সিএমপি, ডিবি (উত্তর) বিভাগের প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
মানবাধিকার খবর — ঢাকা, বাংলাদেশ।