মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি মসজিদে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক কিশোরের প্রবেশ, এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ এবং পরবর্তীতে নিজের পিস্তল দিয়ে আত্মহত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারীর ব্যবহৃত তিনটি মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে।
ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সাধারণ সময়ের মতোই মসজিদে মুসল্লিদের আনাগোনা ছিল। এমন সময় হঠাৎ করেই ওই কিশোর মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে। তার কাছে তিনটি ভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে মসজিদের ভেতরে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। গুলির শব্দে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মুসল্লিরা দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে ছুটতে থাকেন।
মসজিদের ভেতরে তাণ্ডব চালানোর পর, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কিশোরটি নিজের কাছে থাকা অস্ত্র দিয়ে নিজের বুকে গুলি করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য
স্থানীয় পুলিশ বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, "হামলাকারী কিশোরের কাছ থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সে কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে এবং তার সাথে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"
পুলিশ আরও জানায়, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে মসজিদের ভেতরে থাকা অন্যান্য মুসল্লিদের বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যালিফোর্নিয়ার অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ঘনীভূত আতঙ্ক ও ক্ষোভ
এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম কমিউনিটি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার অভাব দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার ও ধর্মীয় সংগঠন এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিশোরের পরিচয় এবং তার মানসিক অবস্থা কেমন ছিল তা জানার জন্য তার পরিবার ও বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বন্দুক সহিংসতার এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে চলমান অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের বিতর্ককে আবারও সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে।