মোঃ রফিকুল ইসলাম : সাতক্ষীরাঃ আকাশে মেঘ ছিল কি না জানা নেই, তবে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি অডিটরিয়ামে শনিবার ছিল বিষণœতার ছায়া। শোক, শ্রদ্ধা আর গভীর ভালোবাসার চাদরে মুড়িয়ে স্মরণ করা হলো এক আলোকবর্তিকাকে-প্রফেসর ড. দিলারা বেগম। গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত এই নাগরিক শোকসভা যেন হয়ে উঠেছিল স্মৃতি আর বেদনার এক মিলনমেলা।
সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে সভার শুরুতেই পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। বক্তাদের কণ্ঠে উঠে আসে এক আদর্শিক জীবনের গল্প। তাঁরা বলেন, দিলারা বেগম কেবল একজন শিক্ষক ছিলেন না; তিনি ছিলেন মানুষ গড়ার কারিগর। যে সমাজে নিঃশব্দে ভালো কাজ করে যাওয়ার মানুষের আকাল, সেখানে তিনি ছিলেন এক ব্যতিক্রমী ধ্রুবতারা।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বক্তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা বলেন, “ড. দিলারা বেগম ছিলেন একাধারে মমতাময়ী মা, নিষ্ঠাবান শিক্ষক, আদর্শ স্ত্রী এবং আলোকিত সামাজিক ব্যক্তিত্ব। সাতক্ষীরার সামাজিক ও শিক্ষা অঙ্গনকে তিনি যেভাবে বিকশিত করেছেন, তার ঋণ শোধ হওয়ার নয়। তাঁর চলে যাওয়া মানে একটি যুগের অবসান, যে শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হবার নয়।”
শোকের এই মিছিলে শামিল হয়ে স্মৃতি তর্পণ করেন সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসুদেব বসু, জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল, কলারোয়া সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আতিয়ার রহমানসহ জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক থেকে শুরু করে মানবাধিকার কর্মী—সবার কণ্ঠেই ধ্বনিত হয়েছে তাঁর কর্মময় জীবনের বন্দনা।
শোকসভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের আহবায়ক এড. এম শাহ আলম, সনাক-টিআইবি সাতক্ষীরার সভাপতি তৈয়ব হাসান বাবু, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম, সিনিয়র সিটিজেন সাতক্ষীরার সভাপতি ডাঃ সুশান্ত কুমার ঘোষ, সাতক্ষীরা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি ড. আক্তারুজ্জামান, জিরো পেন ক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ পবিত্র মোহন দাস, সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব এড. আবুল কালাম আজাদ, সাবেক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামান, মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত, এডিশনাল পিপি এড.ফেরদৌসী ইফতেখার, ভালুকা চাঁদপুর কলেজের অধ্যক্ষ মোবাশ্বেরুল হক জ্যোতি, নারী নেত্রী ফরিদা আক্তার বিউটি, কমরেড আবুল হোসেন, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক শরিফুল আলম, বাসদ নেতা নিত্যানন্দ সরকার, জাসদ নেতা অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, উদীচীর জেলা সভাপতি শেখ সিদ্দিকুর রহমান, সিনিয়র আইনজীবী মোঃ আজাহার হোসেন, সুশীলনের উপ-পরিচালক জি এম মনিরুজ্জামান, অর্জন ফাউন্ডেশনের পরিচালক মহুয়া মনজুরী, জেলা ভুমিহীন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছামাদ, বন নদী ও পরিবেশ আন্দোলন এর সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম, অন্ধ কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবুল কালাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলীনুর খান বাবুল।
সভাশেষে এই বিদগ্ধ ব্যক্তিত্বের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে একটি বিশেষ `স্মরণিকা` প্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হয়। তাঁর কর্মজীবন ও স্মৃতি নিয়ে লেখা পাঠানোর জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শোকসভাটি শেষ হলেও অডিটরিয়ামের বাতাসে যেন দীর্ঘশ্বাস হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছিল একটিই বাক্য- কিছু মানুষ চলে গিয়েও বেঁচে থাকেন তাঁদের আলোয়। প্রফেসর ড. দিলারা বেগম তেমনই এক দীপশিখা হয়ে বেঁচে থাকবেন সাতক্ষীরাবাসীর হৃদয়ে।