সারাদেশ
  মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মায়ের ডাকের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষ্যে ‘মানববন্ধন ও চিত্র প্রদর্শনী’ শীর্ষক অনুষ্ঠানেহাসিনার বিচার হতেই হবে এ মাটিতে: মির্জা ফখরুল
  27-08-2025

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা সবাই জানি, গুম হলো সম্পূর্ণভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং এই অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আজ এটা প্রমাণিত হয়েছে, হাসিনা এই হত্যাকাণ্ডগুলোর জন্য দায়ী। হাসিনা এই গুমের জন্য দায়ী। হাসিনার বিচার অবশ্যই হতে হবে। এই দেশের মাটিতে হতে হবে এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে হবে।

গত ২২ আগস্ট রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মায়ের ডাকের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষ্যে ‘মানববন্ধন ও চিত্র প্রদর্শনী’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মায়ের ডাকের প্রধান সানজিদা ইসলাম তুলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন।
বিএনপির মহাসচিব গুমের ঘটনা জনসমক্ষে আনতে এবং গণশুনানি করতে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমি খুব পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এই গুম কমিশনকে পাবলিকলি নিয়ে আসতে, পাবলিক শুনানি করতে। তারা ব্যর্থ হয়েছে এই ইস্যুগুলো-তাদের আত্মীয়দের, মায়েদের, ভাইদের যে কান্না, সেই কান্নাকে বন্ধ করতে। এর জন্য তাদের (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। ফখরুল বলেন, আজ এই প্রত্যাশা করব, আমাদের এই শিশুগুলো যারা বাবা হারিয়েছে, বোনেরা যারা ভাই হারিয়েছে, মায়েরা যারা সন্তান হারিয়েছে, তাদের সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য এই সরকার বের করে নিয়ে আসবে। সে যেই হোক না কেন, যত বড় শক্তিশালী হোক না কেন। এর চেয়ে ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধ আর কিছু হতে পারে না। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, একটা কথা আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, প্রথম দিন থেকে আমরা এই গুম হওয়া পরিবারের সঙ্গে আছি। আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের সঙ্গে আছি।
গুম-খুনের শিকার স্বজনদের কষ্টের বিষয়টি উল্লেখ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে, আন্দোলনে নামা অনেকেই গুম হয়ে গেল। এক পরিবারের সাতজন পর্যন্ত গুম হলো। স্বজনহারা ছোট বাচ্চাদের দেখলে কষ্ট হয়, তাদের একসময় আরও ছোট দেখেছিলাম। আজ তারা বড় হয়েছে।
ফখরুল বলেন, বিএনপি নির্বাচন অবশ্যই চায়। এই নির্বাচন চায় এই বিচারকে (গুমের ঘটনার) নিশ্চিত করার জন্য। বিচারগুলোকে ত্বরান্বিত করার জন্য। তিনি বলেন, আমাদের দেশে এটা (গুম) আগে ছিল না। ভয়াবহ দানব হাসিনা সরকার তার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে এই গুম এদেশে নিয়ে এসেছে। আমাদের ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, প্রায় ২০ হাজার মানুষকে বিনা বিচারে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং করা হয়েছে, ১৭শ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আপনারা কেউ নিরাশ হবেন না। জনগণের আন্দোলন কখনো ব্যর্থ হয় না, আজ পর্যন্ত হয়নি। এই তরুণেরা, এই শিশুরা তাদের বাবা-ভাইয়ের প্রতি যে অন্যায় হয়েছে, সেটার বিচার তারা দেখে যেতে পারবে।
গুমহত্যাকাণ্ডে জড়িত বাহিনী বিলুপ্তি বা পুনর্গঠনসহ ১১ দফা দাবি ‘মায়ের ডাক’-এর
যেসব নিরাপত্তা বাহিনী বারবার গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিলুপ্তি অথবা পুনর্গঠনসহ ১১ দফা দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুম ও খুনের শিকার পরিবারগুলোর সংগঠন ‘মায়ের ডাক’। ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবসকে সামনে রেখে শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। সংগঠক সানজিদা ইসলাম তুলি মানববন্ধনে বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকটা সত্য সামনে আনব, যেগুলো এখনো পর্যন্ত গোপন রাখা হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই—কোনো সেনানিবাস, কোনো ব্যারাক আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না।’
অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গুমের সব রিপোর্টকৃত ঘটনার নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত শুরু করা; গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে একটি জাতীয় কার্যপ্রক্রিয়া গঠন; গুম ও নির্যাতন থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও আইনি হয়রানি বন্ধ করা; গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার যেন নিখোঁজ আত্মীয়ের আর্থিক ও সম্পত্তিগত বিষয়াদি পরিচালনায় আইনি অধিকার পায়, তা নিশ্চিত করা; গুম থেকে বেঁচে ফেরা ও তাঁদের পরিবারের জন্য একটি জাতীয় সুরক্ষা কাঠামো প্রণয়ন; সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার রোধে অবিলম্বে সংস্কার আনা; গুমবিরোধী যেকোনো প্রস্তাবিত আইনকে আন্তর্জাতিক কনভেশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং আনুষ্ঠানিক কনভেনশনটি অনুসমর্থন করা।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও অন্যান্য সংগঠনের নেতারা। উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকারবিষয়ক উপদেষ্টা হুমা খানসহ কয়েকজন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি। অনুষ্ঠান শেষে ‘মেমোরিজ অব ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর