সারাদেশ
  নিশ্চিত হোক দায়িত্বশীল সরকারের অঙ্গীকারনিরাপত্তার পাওয়ার অধিকার সবার
  27-08-2025

মানবাধিকার খবর : গণপতনের এই ধারা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত সেখানে যেখানে জনগণের কথা শোনা হয় না, সরকার যখন নিজস্ব বলয়ের বাইরে বেরিয়ে গণমুখী আচরণ করতে ব্যর্থ হয়, তখনই বিক্ষোভ, বিদ্রোহ ও পতনের জন্ম নেয়। দলমত, ধর্মবর্ণ, গোত্র-সম্প্রদায়নির্বিশেষে দেশটা সবার। ১৮ কোটি মানুষের। মৌলিক মানবিক অধিকারে কোনো ভেদাভেদ নেই। স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব, সাম্য-সৌভ্রাতৃত্ব, মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। কিন্তু দীর্ঘ স্বৈরশাসনে সেসব হারাতে বসেছিল। দুর্নীতি-দুরাচার, গুম-খুন-অপহরণ, বিরোধী দলমত দমনের নৃশংসতম পন্থা অবলম্বনে জনগণের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পিঠ ঠেকেছিল দেয়ালে। বলা চলে, এসবে জনমনে তিলে তিলে জমা ক্ষোভের বারুদ বিস্ফোরিত হয় গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানে। নারী-শিশু-বৃদ্ধ, শ্রমিক-কৃষক পেশাজীবী পথে নেমে শিক্ষার্থীদের পাশে এসে দাঁড়ান। হাজারো হত্যা, অসংখ্য মানুষকে আহত পঙ্গু করেও সে জনস্রোত রুখতে পারেনি স্বৈরাচার। অবশেষে পতন এবং পলায়ন। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর এই রক্তার্জিত বিজয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার বছরজুড়ে প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচনের যে তিনটি দায়িত্ব ছিল তাদের জন্য অগ্রগণ্য ও গুরুত্বপূর্ণ; সেগুলোর প্রক্রিয়া দৃশ্যমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়কালও ঘোষিত হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে এ ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজনীতির মাঠে এ নিয়ে এখনো শঙ্কা-সংশয়, কিছু শর্ত-আপত্তি থাকলেও ঘোষিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের দৃঢ়তা লক্ষ করা যাচ্ছে। গণতন্ত্রের স্বার্থে, শান্তিপ্রিয় জনগণ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে ম্যান্ডেট পাওয়া সরকারের হাতে দ্রুতই রাষ্ট্র পরিচালনার ভার ন্যস্ত হওয়া কামনা করছেন। এমন একটা প্রেক্ষাপটে গত ২১ আগস্ট রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।’ বলেন, তাঁর দল বিশ্বাস করে- ‘দলমত, ধর্মদর্শন যার যার, কিন্তু দেশটা সবার। জীবনের সব ক্ষেত্রে সবার অধিকার সমান।’ এটা নিশ্চিত করার জন্যই চাই জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, অঙ্গীকারবদ্ধ, জনগণের সরকার। এ ক্ষেত্রে তিনি দেশের মানুষের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন। এ তাঁর দায়িত্বশীল বিবেচনা এবং বিনয়ী আহ্বান। দেশের মানুষ সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে এমন সংবেদন, বিশ্লেষণ ও আত্ম-উপস্থাপনাই কামনা করে। জাতি চায় সেই সরকার, যার হাতে দেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব, জনগণের জানমাল-সম্ভ্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে। দূর হবে বৈষম্যের শেষ বিন্দুটিও। তার পথে বাধা সৃষ্টির সব অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দিতে হবে, ঐক্যের শক্তিতে।