মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে ‘নিয়ন্ত্রণ ও পেশাদারিত্ব ফেরাতে’ সরকারি প্রশাসক নিয়োগের আবেদন জানানো হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী, সচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যান এবং ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর এই আবেদন জমা দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সারওয়ার হোসেন।
আবেদনের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আইন, স্বরাষ্ট্র, ভূমি ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে বলে ওই আইনজীবী নিশ্চিত করেছেন।
যেসব গণমাধ্যমে প্রশাসক চেয়ে আবেদন
সুপ্রিম কোর্ট এনেক্স ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী এম সারওয়ার হোসেন জানান, বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ৫টি প্রধান সারির গণমাধ্যমে এই প্রশাসক বসানোর দাবি জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
১. কালের কণ্ঠ
২. বাংলাদেশ প্রতিদিন
৩. দ্য ডেইলি সান
৪. নিউজ টোয়েন্টিফোর টিভি
৫. বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
আবেদনের কারণ ও গুরুতর অভিযোগসমূহ
সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী সারওয়ার হোসেন বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকপক্ষ ও তাদের সংবাদমাধ্যমগুলোর ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। আবেদনে উল্লেখ করা প্রধান অভিযোগগুলো হলো:
- অপপ্রচার ও পেশাদারিত্বহীনতা: সংবাদমাধ্যমগুলোকে ‘পেশাদারিত্বহীন, মাফিয়াতন্ত্রের হাতিয়ার এবং দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত’ বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ ধামাচাপা দিতে এবং প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
- রাষ্ট্রের ভেতর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা: গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "শাহ আলম সাহেব চেয়ারম্যান হয়ে রাষ্ট্রের ভেতরে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে।"
- অর্থ পাচার ও অবৈধ দখল: বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে নদী-নালা ও জলাভূমি দখল, আবাসিক এলাকায় চাঁদাবাজি, রাজউকের প্ল্যান জালিয়াতি এবং হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ নিয়ে দুবাই, সিঙ্গাপুর, সাইপ্রাস, লন্ডন ও মালয়েশিয়ায় অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সিআইডি বর্তমানে এই জমি দখলের বিষয়গুলো তদন্ত করছে বলে তিনি জানান।
- ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ: মালিকপক্ষের সন্তানদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের `ক্রিমিনাল অফেন্স` বা ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে তিনি মুনিয়া ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড মামলার প্রসঙ্গ টানেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার যেন আইনি লড়াই করতে না পারে, সেই বাধাও সৃষ্টি করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের প্রতি সহানুভূতি
গণমাধ্যমগুলোতে কর্মরত সাংবাদিকদের বিষয়ে এই আইনজীবী বলেন, "এই মিডিয়া হাউজের সাংবাদিক ভাইয়েরা, তারা বাধ্য হইয়া এই অনৈতিক অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদেরকে আমি দোষ দেই না।" তিনি স্পষ্ট করেন যে, তিনি সংবাদমাধ্যমগুলো বন্ধ করার পক্ষে নন, বরং সেখানে সুশাসন ও নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে প্রশাসক নিয়োগ চান।
পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
প্রেস কাউন্সিলে না গিয়ে সরাসরি মন্ত্রণালয়ে কেন আবেদন করলেন— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস কাউন্সিলকে একটি ‘দন্তহীন সংস্থা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, "তারা শুধু সতর্ক করতে পারে, এর বাইরে তাদের আইনে কোনো এখতিয়ার নাই।"
সরকার যদি এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে আগামীতে উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) রিট দায়ের করবেন বলেও ঘোষণা দেন এই আইনজীবী।