April-2016 বাংলা দেখা না গেলে এখানে ক্লিক করুন   
ID NO:  
প্রচ্ছদ সম্পাদকীয় বিশেষ প্রতিবেদন জাতীয় সারাদেশ প্রকৃতি ও পরিবেশ র্পযটন আর্ন্তজাতিক মানব র্দুভোগ অর্থ ও বাণিজ্য স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা কৃষি কথা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নারী অঙ্গন বিনোদন খেলাধূলা রাশিফল সম্পাদকের কথা মানবাধিকার প্রতিবেদন আইন ও পরামর্শ সাক্ষাতকার সাহিত্য ও সাময়িকি
Hot News->:
১২ প্রতিষ্ঠান পেল ‘রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার’
১২টি প্রতিষ্ঠানকে ২০১৪ সালের ‘রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ৩০ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে বেসরকারি খাতে শিল্প স্থাপন, পণ্য উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদানের জন্য শিল্পোদ্যোক্তাদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। তিনি উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান এবং সেইসঙ্গে সময়মত ঋণ পরিশোধের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। বৃহৎ শিল্প ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রামের বিএসআরএম স্টিলস লিমিটেড, ঢাকার আব্দুল মোনেম লিমিটেড ও কুষ্টিয়ার বিসিক শিল্প নগরীর বিআরবি কেবলস ইন্ডাস্ট্রিজ এ পুরস্কার পেয়েছে। মাঝারি শিল্প ক্যাটাগরিতে বসুমতি ডিস্ট্রিবিউশন, এগ্রিকেয়ার ইমপোর্ট ও এক্সপোর্ট এবং খুলনার জালালাবাদ ফ্রোজেন ফুড্স লিমিটেড পেয়েছে রাষ্ট্রপতির পুরস্কার। ক্ষুদ্র শিল্প ক্যাটাগরিতে নরসিংদীর হেলাল অ্যান্ড ব্রাদার্স, চট্টগ্রামের এডেসান গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ ও পাবনার প্রিন্স কেমিকেল কোম্পানি এ পুরস্কার পেয়েছে। কুটির শিল্প ক্যাটাগরিতে রাষ্ট্রপতির পুরস্কার পেয়েছে মানিকগঞ্জের জননী উইভিং ফ্যাক্টরি। আর হাইটেক শিল্প ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ও ঢাকার সার্ভিস ইঞ্জিন লিমিটেড পুরস্কার পেয়েছে
...... বিস্তারিত
‘আন্তর্জাতিক সাহসী নারী’ পুরস্কার পেলেন সারা হোসেন
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কার (ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ অ্যাওয়ার্ড) পেয়েছেন আইনজীবী সারা হোসেন। তাঁর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের আরও ১৩ জন সাহসী নারী এই পুরস্কার পেয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ২৯ মার্চ পররাষ্ট্র দপ্তরে তাঁদের এই পুরস্কার তুলে দেন। শান্তি, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, লৈঙ্গিক সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে নারীদের সাহসিকতার জন্য পুরস্কৃত করে থাকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ২০০৭ সালে চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬০টি দেশের ১০০ জন সাহসী নারী এ পুরস্কার পেয়েছেন। খ্যাতিমান আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের মেয়ে সারা হোসেন একজন মানবাধিকার আইনজীবী। দেশের সুবিধাবঞ্চিত এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পক্ষে তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আইনি লড়াই করেন। তিনি বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) সম্মানীয় নির্বাহী পরিচালক। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আইনের খসড়া প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ২০১০ সালে তা আইনে পরিণত হয়। সারা হোসেন ফতোয়া এবং নারীদের প্রতি অসম্মানজনক শাস্তির বিপক্ষে আইনি লড়াই করেছেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায়। পাশাপাশি ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি প্রমাণের জন্য বিতর্কিত পরীক্ষাপদ্ধতির বিরুদ্ধেও আইনি লড়াই করেছেন তিনি।
.......... বিস্তারিত
শ্রীপুরে অসামাজিক কর্মকান্ড বন্ধের দাবিতে মানব বন্ধন ও নির্বাহি কর্মকর্তা বরাবর স্বারক লিপি প্রদান
শ্রীপুরের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় মেলার নামে বিভিন্ন রকমের অসামাজিক কার্যকলাপ, জুয়া, হাউজি, লাকি কুপন ড্র চলছে। শ্রীপুর উপজেলার এম. সি বাজারের পূর্ব পাশে শিশু পল্লী রোড সংলগ্ন ঐতিহাসিক সাতকাপ মাঠে মেলার নামে এসব কার্যকলাপ চলে আসছে ফলে সমাজের স্কূলগামী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আতঙ্কে অভিভাবক। মেলায় যে সকল অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শন করা হয় তা দেখে তর”ন সমাজ ধ্বংসের দার প্রান্তে। এসকল যুব সমাজকে ধ্বংসের পথ থেকে ফিড়িয়ে আনার একমাত্র উপায় এধরণের অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করা। সূত্রে জানাযায় মেলার সাথে সাথে এলাকায় বসেছে মাদকের জমজমাট ব্যবসা। আগামি ২৩ এপ্রিল আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে মেলার কারণে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা করছে বিভিন্ন প্রার্থীরা। ৩০ শে মার্চ বোধবার মেলার নামে সকল অনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধের দাবীতে তেলিহাটি ইউপির চেয়ারম্যান আ: বাতেন সরকার ও ইউনিয়ন আওয়মীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছাত্তার আবুল, উপজেলা আওয়মী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মোড়ল, আবুল হোসেন সহ এলাকা বাসীর মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানব বন্ধন, সমাবেশ ও নির্বাহি কর্মকর্তা বরাবরে স্বারক লিপি জমাদেয়া হয়।
.....বিস্তারিত
বাঙালিয়ানা ও বৈশ্বিকতা
বাঙালি সমষ্টিগতভাবে জাগলে তার অনেক সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারে। উনিশ শতকে সে তার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকান্ডের জায়গাগুলো চিহ্নিত করেছিল, শিক্ষা নিয়ে যে পশ্চাৎপদতা ছিল, তা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে পেরেছিল। কিন্তু হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে যে ধর্মীয় বিভাজন ছিল, তার সমাধান করতে পারেনি। মুসলমানরা নিবর্গীয়তার চাদরে এমনভাবে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল যে, তারা আঠারো-উনিশ শতকজুড়ে প্রায় অদৃশ্য একটি অবস্থানে চলে গিয়েছিল। তাদের যেহেতু চোখে পড়ত না, তাদের কথাও কেউ মনে করত না। এজন্য একটা সময়ে বাঙালি ও মুসলমান দুটি পরিচয় আলাদা হয়ে দেখা দিলো। যে ক’জন মুসলমান লেখক-চিন্তক উনিশ শতকে আবির্ভূত হয়েছেন, তাঁরাও তাঁদের বাঙালিত্বকে- বাঙালিয়ানাকে- খুব বড় করে দেখেননি। কেউ কেউ তো তা অস্বীকারও করে বসেছিলেন। এই বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ বাঙালি নিয়েছে কুড়ি শতকের রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে। ১৯০৫-এ বঙ্গভঙ্গ হলে কোলকাতাকেন্দ্রিক সুশীল সমাজ, পূর্ববঙ্গীয় জমিদার শ্রেণী- যাদের একটা বড় অংশ জমিদারি থেকে অনেক দূরে কোলকাতাতেই বছরের বেশির ভাগ সময় থাকতেন- এবং রাজনৈতিক বিপ্লবীরা এর বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই প্রতিরোধের তেজ পূর্ববঙ্গে অনুভূত হতে থাকে এবং মুসলমানরা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সাংস্কৃতিক ভাতঘুম থেকে জেগে ওঠে। এই জেগে ওঠা ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড় ফেলার ঘটনা। জেগে উঠে বাংলাদেশের মুসলমান বাঙালিরা, বঙ্গভঙ্গের ফলে যাদের নানাভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনায় ছিল, একটি রাজনৈতিক বিকল্প অবস্থান খুঁজতে লাগলো এবং একই সঙ্গে শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে সংকল্পবদ্ধ হলো। রাজনৈতিক বিকল্পটি ছিল নিজেদের সংঘবদ্ধ করা এবং আত্মশক্তির অন্বেষণে নামা। এই দুটিই তারা করেছে তাদের বাঙালি অবস্থানকে বিসর্জন না দিয়ে, বরং একে সুসংহত করে। শিক্ষার ক্ষেত্রেও দূরপ্রসারী চিন্তা ছিল। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে বাঙালি মুসলমানের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হলো। তারপর যত দিন গেল, হিন্দু-মুসলমানের দূরত্ব এবং বিভেদ কমলো। হিন্দু ভদ্রলোকেরাও মেনে নিলেন, মুসলমান বাঙালি ও হিন্দু বাঙালির মধ্যে ধর্ম ও ধর্মাচার বাদ দিলে মৌলিক কোনো প্রভেদ নেই, বরং মিলগুলোই বেশি। একটা বিষয় তারা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে উদ্যাপন করতে পারে এবং তা হচ্ছে বাঙালিয়ানা। বাংলাদেশের কীর্তিমান লেখক, চিন্তাবিদ এবং সমাজসংস্কারকরা এই বাঙালিয়ানাকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন, যেহেতু তাঁদের কাছে হিন্দু-মুসলমান প্রভেদটা কখনো বড় হয়ে দেখা দেয়নি। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর থেকে নিয়ে রবীন্দ্রনাথ-মধুসূদন-নজরুল সবাই সামষ্টিক বাঙালিকে তাঁদের চিন্তা ও লেখার মাঝখানে স্থান দিয়েছেন, কোনো একটি সম্প্রদায়কে নয়। বাঙালিয়ানার প্রথম শর্ত তাই ধর্মসম্প্রদায়ের পরিচয়ের ঊর্দ্ধে উঠে বৃহত্তর বাঙালি সত্তাকে ধারণ করা। ১৯৪৭ সালে আবার বঙ্গভঙ্গ হলো, কিন্তু এবার কোলকাতার সুশীল সমাজ ও জমিদার শ্রেণী একে সাদরে গ্রহণ করলো। ফলে পূর্ববঙ্গ থেকে পশ্চিমবঙ্গ আলাদা হয়ে বাঙালির দুই ভূখ- দুটি পৃথক কক্ষপথে ঘুরতে থাকলো। ততোদিনে পূর্ববঙ্গের বাঙালি রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও শক্তিশালী হয়েছে। শিক্ষাকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যা, বাঙালিয়ানার একটা মালিকানাও গ্রহণ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি শিক্ষায়, জ্ঞানবিজ্ঞানে এবং সংস্কৃতিচর্চায় সব সময় এগিয়ে ছিল। সেও তার বাঙালিয়ানাকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে পরখ করতে থাকলো। কিন্তু দুই বাংলার বাঙালি একটা রাজনৈতিক সংকটেও পড়লো। পশ্চিমবঙ্গ ভারত প্রজাতন্ত্রের একটি প্রদেশ হলো, অনেক প্রদেশের একটি, কিন্তু ভারতের ক্ষমতাকেন্দ্র থেকে অনেক দূরেই রয়ে গেল। ক্ষমতাকেন্দ্রটি ছিল হিন্দি বলয়ে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি বুঝতে পারলো, ভারতের ক্ষমতা অথবা অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় নামার তার সম্ভাবনা নেই। এর ফলে তার জীবন একটা প্রাত্যহিকতার চর্চায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়লো। উনিশ শতকে যে উদ্যম, প্রত্যয় এবং একাগ্রতা নিয়ে সে রেনেসাঁসের পথে হাঁটছিল, সে রকম তেজি ভাব নিয়ে হাঁটা তার পক্ষে আর সম্ভব ছিল না। কিন্তু তার একটা সুবিধা ছিল, ভারত রাজ্য আর দশটা রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গকে নিজের মালিকানায় ছেড়ে দেয়ায় তাকে সেই অবস্থানে যেতে হলো না, যে অবস্থানে পূর্ববঙ্গের বাঙালি পাকিস্তানের সঙ্গে সংসার বাঁধার প্রথম দিনটিতেই নিজেকে আবিষ্কার করলো, অর্থাৎ নিতান্ত ঊনজনের অবস্থানে। দিনে দিনে স্পষ্ট হলো, এই অবস্থানটি উপনিবেশী প্রজার। ইংরেজদের উপনিবেশ থেকে বেরিয়ে পূর্ববঙ্গের বাঙালি পড়লো পাকিস্তানি উপনিবেশের খপ্পরে। ফলে পশ্চিমবঙ্গে বাঙালি যখন নিরুদ্বেগ হাঁটছে চেনা পথে, পূর্ববঙ্গের বাঙালিকে তখন রীতিমতো দৌড়াতে হচ্ছে এক প্রতিকূল যাত্রাপথে। এই দৌড়ানোটা অবশ্য একটা দিগন্তের সন্ধান দিয়েছে পূর্ববঙ্গের বাঙালিকে। এই দিগন্তের নাম স্বাধিকার। স্বাধীনতা। মুক্তি। এবং নিজের সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি এবং শিক্ষার অধিকার নিজের হাতে নেয়ার অনিবার্যতা। বাঙালিয়ানার দ্বিতীয় শর্তও পূর্ববঙ্গের বাঙালি ততোদিনে পালন করতে শুরু করেছে, এবং তা হচ্ছে প্রতিকূল অবস্থানেও নিজস্বতাকে চিহ্নিত করা এবং পালকের মতো তা টুপিতে পরা। ২. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে নানা ভাবে পড়া হয়- ভাষার প্রতি আমাদের ভালোবাসার প্রকাশ থেকে নিয়ে স্বাধীনতার প্রথম স্ফূরণ পর্যন্ত। আমি ১৯৫২- কে পড়ি বাঙালিয়ানার একটি গুর”ত্বপূর্ণ উৎসার হিসেবে। ভাষা আন্দোলনের পর থেকে সকল বাঙালির মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার একটা দায়িত্ব পূর্ববঙ্গের বাঙালি নিজের হাতে তুলে নিলো। ফলে, সকল বাঙালি, অর্থাৎ হিন্দু এবং মুসলমান একটা জায়গায় এসে এক হলো। ১৯৪৭- এর দেশ বিভাগের পর পূর্ববঙ্গের বেশিরভাগ হিন্দু পরিবার বাংলাদেশে থেকে যায়। ভাষা আন্দোলনের পর যখন পাকিস্তানি শাসকের চোখ রক্তবর্ণ হলো, তখন এই প্রথম বাঙালি মুসলমান দেখতে পেলো, হিন্দু ও অন্য সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেয়ার, এদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্বটা এখন তার ওপরই পড়েছে। সে বুঝলো, এই দায়িত্বটা তাকে নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। কিন্তু তা করতে গেলে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে একটা বড় ঐক্যের জায়গা খুঁজতে হবে। ওই ঐক্যের জায়গাটাই বাঙালিয়ানা। পাকিস্তান রাষ্ট্রে বাঙালি মুসলমানই যখন ছিল ঊন-অবস্থানে, সেখানে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুর অবস্থানটা কোথায় ছিল, তা সহজেই অনুমেয়। বাঙালি মুসলমান যদি নিজের বাঙালি পরিচয়টি গৌণ করে ফেলত, তাহলে সে পাকিস্তানি উপনিবেশের বির”দ্ধে প্রতিরোধ সৃষ্টিতে সফল হতো না, হয়তো তার প্রয়োজনও বোধ করত না। ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী বাঙালি পরিচয়টি গুরুত্ব দিতো না। ফলে তারা যে একটি উপনিবেশী শক্তির স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে, পাকিস্তানিদের সমান মর্যাদায় নয়, এ বিষয়টিও তাদের বিবেচনায় ছিল না। কিন্তু ১৯৫৪- এর নির্বাচনে এদের হটিয়ে দিয়ে যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পরই বাঙালি রাজনৈতিকভাবে তার বাঙালিয়ানা প্রতিষ্ঠার একটা সুযোগ পেল, যার পেছনে প্রধান অনুপ্রেরণা ছিল ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন। এই বাঙালিয়ানায় মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার ছিল সমান প্রবেশাধিকার। বাঙালিয়ানায় তৃতীয় একটি শর্ত হলো এই যে, এই পরিচয়টি প্রধানত সাংস্কৃতিক-নৃতাত্ত্বিক হলেও একে রাজনৈতিক কষ্টিপাথরে মাঝেমধ্যেই পরখ করে নিতে হয় এবং সেই রাজনীতির চরিত্র গণমুখী, গণতান্ত্রিক, সকলের অংশগ্রহণমূলক এবং অসাম্প্রদায়িক। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সব বাঙালি যে একটি কাতারে দাঁড়িয়ে যুদ্ধের মাঠে নামলো, তা ওই বাঙালিয়ানারই একটি মহৎ প্রকাশ। একাত্তরে বাঙালিয়ানার একটি পরীক্ষা হয়েছে এবং তাতে আমরা সফল হয়েছি। এজন্য একাত্তরের বাঙালিয়ানা একটা মডেল হয়ে রয়ে গেছে আমাদের কাছে। বাঙালিয়ানার চতুর্থ একটি শর্ত তাহলে এই যে এর বলিষ্ঠ প্রকাশের জন্য একটা শক্ত প্রতিপক্ষের বির”দ্ধে তাকে দাঁড়াতে হয়। প্রতিদিনের শান্ত, নিস্তরঙ্গ জীবন বাঙালিকে আমরা ঘুমাতে দেই, অথবা যখন স্বার্থের কলহে লিপ্ত হই, অথবা রাজনীতির লাভক্ষতির অঙ্ক কষতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, তখন বাঙালিয়ানাকে একটা পোশাকি বিষয়ে পরিণত করে ফেলি। কিন্তু কঠিন সময়ে, শীতল এবং শক্ত প্রতিপক্ষের বির”দ্ধে যখন আমরা দাঁড়াই, আমাদের তখন শক্তি ও সাহস জোগায়, ঐক্যবদ্ধ করে বাঙালিয়ানার অভিমান এবং অহংকারগুলো, এর অন্তর্নিহিত শ্রেয়বোধ এবং সুন্দরের চিন্তাগুলো। কবি ডব্লিউ বি ইয়েটস তাঁর এক কবিতায় অদম্য আইরিশিয়ানা বা ওহফড়সরঃধনষব রৎরংযৎু- এর উদ্যাপন করেছিলেন। আমরাও অসংখ্যবার অদম্য বাঙালিয়ানার উদ্যাপন করেছি। বাঙালিয়ানা কোমলে-কঠোরে-প্রেমে-দ্রোহে-আগুনে-জলে-তেজে-মমতায় মেশানো এক অস্তিত্বশিল্পের নাম, যেখানে শিল্প ও শিল্পী এক হয়ে যায়। বাঙালিয়ানার মৌলিক উপাদানে বৈপরীত্যের অবস্থান এবং বাঙালিয়ানার বিপদটাই সেখানে। কোমল যখন কঠোরের সঙ্গে দ্বান্দ্বিক একটি অবস্থানে থাকে, তখন কোমলের সব চিহ্নকে শনাক্ত করা যায়, এবং বিপরীত অবস্থানের বিচারে সেগুলো পরিমাপ করা যায়। এই দ্বান্দ্বিক অবস্থান তাকে একটি শুদ্ধতা দেয়, যা কোমলের সারবস্তু, এর মৌলিক রূপ। কিন্তু দ্বান্দ্বিকতার ক্ষেত্র থেকে বেরিয়ে কোমল যদি একক একটি অবস্থান নেয়, তখন কোমল অতি-কোমল হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং কখন সেই অশুদ্ধ কঠোরে বীভৎসতা, সহিংসতা- এসব ঢুকে যেতে পারে। বাঙালি চরিত্রে মাঝে মধ্যেই যেসব অশুদ্ধতা সমস্যা সৃষ্টি করে, সেগুলো ঘটে দ্বান্দ্বিক ভারসাম্যটি নষ্ট হলে। এই ভারসাম্য রক্ষা করে বুদ্ধি, যুক্তি এবং কিছু, পরিমানে, আবেগ; ভারসাম্য হারালে আবেগটা প্রকা- হয়ে পড়ে। তখন ক্রুদ্ধ কুপিত বাঙালি প্রতিবেশীকে আঘাত করে, নিজের পায়েও কুঠার চালাতে পারে। নীরদচন্দ্র চৌধুরী বাঙালি চরিত্র পড়েছেন খুব নিস্পৃহভাবে, কখনো একজন উন্নাসিকের দৃষ্টি দিয়ে। এবং তিনি তাতে বাঙালির আত্মঘাতী প্রবণতাগুলো চিহ্নিত করতে পেরেছেন। আত্মঘাতী বাঙালি নামে তিনি একটি বই লিখেছেন। যেখানে তিনি পরিতাপের সঙ্গে বলেছেন, ‘আজ বাঙালি জীবনে যে জিনিসটা প্রকৃতপক্ষেই ভয়াবহ সেটা এই: মৃত্যুযন্ত্রণারও অনুভূতি নাই; আছে হয় পাষাণ হইয়া মুখ বুজিয়া সহ্য করা; অথবা সংজ্ঞাহীন হইয়া প্রাণমাত্র রাখা; আরেকটা ব্যাপারও আছে- জাতির মৃত্যুশয্যার চারদিকে ধনগর্বে উল্লাসিত বাঙালি প্রেত ও প্রেতিনীর নৃত্য’ (১১)। আমি যে ভারসাম্যের কথা বলছি, যে ভারসাম্য বাঙালিয়ানার সুষম প্রকাশের জন্য একটি অবশ্যকতা, নীরদ চৌধুরী তার অভাবের কথাই লিখেছিলেন। এই ভারসাম্য বাঙালি অর্জন করেছে বুদ্ধি এবং যুক্তির পথে, তার আবেগকে শুদ্ধতার পথে পরিচালনা করে। আবার ভাবের সংহত চর্চাতেও সেটি সম্ভব হয়েছে। বস্তুত বাঙালির লোকজ জীবনে ভাবের ও সহজিয়া চিন্তার মাধ্যমে এই ভারসাম্যটি যুগ যুগ টিকে আছে। আমাদের বাউল কবিরা বহু আগেই দেহ ও আত্মার, অন্তর এবং বাহিরের, সান্ত এবং অন্তরের মিলের বিষয়গুলো অনুসন্ধান করেছেন। বাঙালির লোকজ মনীষা বাঙালিয়ানাকে উৎকৃষ্ট একটি পরিচয় দিয়েছে। বাঙালিয়ানার মধ্যে একটি সহজাত আপন ভোলা প্রকাশ দেখা যায়। বাঙালিয়ানার আরেকটি শর্ত এই ‘আপনাতে আপনি পূর্ণ’ আপনভোলা, উদার দৃষ্টি। বিষয়চিন্তায় যে পিষ্ট, ধনগর্বে সে উল্লসিত, তার বাঙালিয়ানা প্রকৃত নয়, আরোপিত। বাঙালিয়ানার অনেক রূপ। হালের বহুজাতিক কোম্পানিগুলো, জীবনশৈলীর প্রচারক ও প্রসারকরা, দৃশ্য মাধ্যমের কারিগররা বাঙালিয়ানাকে পণ্যপ্রবাহের মাঝখানে ফেলে দিয়েছে। তাতে একটা আরোপিত বাঙালিয়ানাই যেমন মুখ্য হয়েছে। বলা যায়, বাঙালিয়ানাকে একটি ব্র্যান্ডের পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে। বাঙালিয়ানার একটি শর্তও বোধহয় এই যে, একে বহুভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। রবীন্দ্রনাথ একভাবে করেছেন: ‘ভদ্র মোরা, শান্ত বড়, পোষমানা এই প্রাণ/বোতাম আঁটা জামার নিচে বাঙালি সন্তান,’ যেখানে শ্লেষ ও কৌতুক দিয়ে তিনি আড়ালে পড়া প্রকৃত বাঙালিয়ানার ছবিটা তুলে ধরতে চাইলেন; নীরদ চৌধুরী আরেকভাবে করেছেন, আবার এই সময়ের মিডিয়া এবং জীবনশৈলীবিষয়ক ম্যাগাজিনগুলো অন্য একভাবে করেছেন। তাতে ক্ষতি নেই। যুগটা এখন উত্তরাধুনিকতার, পণ্যপ্রবাহের, মুখ ঢেকে যাওয়া বিজ্ঞাপনের এবং চমক বা ঝঢ়বপঃধপষব-এর। রবীন্দ্রনাথ সেই কবে যদি ঠাট্টা-কৌতুক করে বাঙালিয়ানার স্খলনগুলো চিহ্নিত করতে পারেন, তাহলে করপোরেট বাঙালিয়ানার ইমেজ থেকে আসল বাঙালিয়ানার দিকে দৃষ্টি কেন দেয়া যাবে না। এবং এই ‘আসল’ বলতে আদৌ কিছু আছে কি না, থাকলে কার বা কাদের বিবেচনায় আসল, কোন মাপকাঠিতে, ইত্যাদি, সেসব প্রশ্নও তোলা যায়। বাঙালি বনাম বাংলাদেশি নিয়ে যেমন কূটতর্ক হয়েছে, সে রকম বাঙালিয়ানা নিয়েও তর্ক হতে পারে। আমরাই তো দাবি করি, পাঁচ বাঙালিকে একটি ঘরে আবদ্ধ করে রাখলে দু’দিন পর ছ’টি রাজনৈতিক দল তৈরি করে তারা বেরিয়ে আসবে; তাহলে তর্কাতর্কিকে বিসর্জন দেয়ারও প্রয়োজন নেই। তর্কাতর্কি, আড্ডা, আড্ডায় রাজা উজির মারা, পরশ্রীকাতর হওয়া- এসবও বাঙালিয়ানার উপাদান। বাঙালিয়ানা, এজন্যই কিনা, কোনো স্থির নির্দিষ্ট কিছু নয়, হওয়ার কথাও নয়। এটি সময়ে-সময়ে পাল্টায়, যদিও এর মৌল চরিত্রগুলো- যেগুলোর বর্ণনাও ওপরে দেয়া হয়েছে- পাল্টায় না, অথবা সেগুলো একের সঙ্গে অন্যের নতুন-নতুন সমীকরণে জড়িয়ে পড়ে। এই পরিবর্তনশীল বাহ্যপ্রকাশগুলোই বাঙালিয়ানাকে ক্রমাগত আবিষ্কারের এবং পুনরাবিষ্কারের বিষয়ে পরিণত করেছে। ৩. আমাদের সময় বাঙালিয়ানার একটি নতুন জাগরণ, অথবা নতুন জন্ম আমরা দেখতে পাচ্ছি, অথবা আমাদের ধারণা, দেখতে পাচ্ছি। দুই কারণে এটি ঘটতে পারে। প্রথমত, এমন হতে পারে যে, প্রকৃতই বাঙালিয়ানার পুনর্জন্ম হচ্ছে, যেহেতু বাঙালিয়ানা কোনো একক নির্দিষ্ট জলরোধক প্রকোষ্ঠে সংরক্ষিত কোনো সাংস্কৃতিক-নৃতাত্ত্বিক সম্পত্তি নয়, বরং যুগে যুগে এর প্রকাশে পরিবর্তন ঘটে, এর মৌল চরিত্রগুলো না বদলালেও। অথবা এমনও হতে পারে, আমরা চাইছি, বাঙালিয়ানা সময়ের ডাকে নতুন করে জাগবে, যেহেতু সময়টা বৈরী। দুটোই হয়তো হচ্ছে, দ্বিতীয়টিই হয়তো প্রথমটিকে অনিবার্য করে তুলছে। আমি আগেই বলেছি, সময় প্রতিকূল হলে, প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলে বাঙালিয়ানার একটা বলিষ্ঠ প্রকাশ ঘটে। গত কুড়ি বছরে বাঙালি সংস্কৃতি বিপদের মুখে আছে- আগেও ছিল, কিন্তু এখন প্রতিপক্ষ যেন মূলধারাতেই একটা পা রেখেছে। এই প্রতিপক্ষের যে অবস্থান, তা বাঙালিয়ানার বিপরীতে যায়- যেমন প্রতিপক্ষ উদার ও অগ্রসর চিন্তার নয়; প্রতিপক্ষ সাম্প্রদায়িক চিন্তায় আচ্ছন্ন; জাতির শৌর্য-বীর্যের ইতিহাসকে তারা অস্বীকার করে; প্রতিপক্ষ আমাদের সংস্কৃতিতে বহুজনের মিলনের বিষয়টি মেনে নিতে পারে না; প্রতিপক্ষের আধিপত্যবাদী চিন্তায় সহিংসতা একটি অনিবার্য শর্ত; প্রতিপক্ষের দৃশ্যকল্পনায় ঔদার্য নেই, সেখানে আছে সংকীর্ণতা, এরা নৃত্য-গান-নববর্ষ উদ্যাপন অথবা প্রতীকী যে-কোনো আচারকে বিজাতীয় ভাবে। এ রকম প্রতিপক্ষ সব সময়েই ছিল, কিন্তু এখন এরা শক্তিশালী, সংগঠিত। অন্য অনেক দেশে এ রকম বিরোধ নিষ্পত্তি হয় যুক্তিতর্কে, আলাপ-আলোচনায় অথবা সহিংসতায়। প্রতিপক্ষ হিংসায় বিশ্বাস না করলে পক্ষ-প্রতিপক্ষ বিতর্ক করে; সহিংস হলে পক্ষও সহিংস হয়। কিন্তু বাঙালিয়ানা অহিংসায় বিশ্বাসী। এর আদর্শে আছে নান্দনিকতা এবং রূচিশীলতা। ফলে প্রতিপক্ষের বিপরীতে তাকে দাঁড়াতে হয় একটা অহিংস কিন্তু প্রত্যয়ী অবস্থান থেকে। তাকে মানুষকে উজ্জীবিত করতে হয় তাদের শ্রেয়চিন্তা জাগিয়ে, শুভ-অশুভের প্রভেদটা বুঝিয়ে। প্রতীক এবং ইমেজের সাহায্যে প্রেরণা জোগাতে হয়। মানুষকে জাগাতে বিপরীত সম্ভাবনার ছবিটাও তুলে ধরতে হয় তাকে- কী হতে পারে, যদি প্রতিপক্ষের শক্তি বাঙালিয়ানার শক্তিকে ছাপিয়ে ওঠে? তবে একই সঙ্গে এই বানীও মানুষের কাছে পৌছে যায়, বাঙালিয়ানার আসল শক্তি অন্তরের, মাটির ও শিকড়ের। বাইরে থেকে ছাপিয়ে দেয়া কোনো মতাদর্শ কখনো বাঙালিয়ানার মৌল শক্তিগুলোকে পরাভূত করতে পারে না। বাঙালিয়ানার পুনজাগরণ ঘটেছে নিজের ঘরে প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে। বাঙালিয়ানা পরমুখাপেক্ষী নয়, সে নিজেতে নিজেই পূর্ণ। এই বাঙালিয়ানার এলিট চিন্তা নেই, আছে সকল মানুষের সমান অংশগ্রহনের আহ্বান এবং সুযোগ। এই বাঙালিয়ানায় আচার এবং অন্তঃসার মিশে থাকে, আলাদা হয়ে থাকে না। বাঙালিয়ানার যে কর্পোরেট রূপের কথা আমি বলেছি, তারও দেখা অবশ্য বাংলাদেশে এবং পশ্চিমবঙ্গে মেলে, তবে তা নির্মিত একটি রূপ। এর ধারক ও বাহক পণ্যসংস্কৃতি, দৃশ্যমাধ্যম এবং শহুরে মধ্য ও উচ্চবিত্ত। সমাজে ইমেজের গুর”ত্ব সৃষ্টি করে একধরণের আরোপিত সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে পণ্যায়নের উদ্দেশ্য সফল করাই করপোরেট ঠাকুরদের প্রধান চিন্তা। বাঙালিয়ানার কিছু গুঢ় প্রকাশ আছে- যেমন এর অসাম্প্রদায়িকতা, এর অগ্রসরবাদিতা- যেগুলো দেখার বিষয় নয়, অনুববের বিষয়। ইমেজ সংস্কৃতি এগুলোকে তুলে ধরতে স্বাচ্ছন্দ্য পায় না। তাই নতুন নতুন ইমেজ তৈরি করে এগুলোকে কাজে লাগাতে চায়। মোবাইল ফোনে অথবা স্বাস্থ্যসেবার বিজ্ঞাপনে অনুভবের বিষয়গুলোকেও ইমেজের জেল্লা দিয়ে আকর্ষণীয় করে দেখানো হয়। কিন্তু বাঙালিয়ানার কিছু বাইরের প্রকাশ আছে এর উদ্যাপনের, সম্মিলনের। কর্পোরেট বিজ্ঞাপনে যেমন উদযাপনটা এই বাহ্যিক রূপের, যেমন বাঙালির পোশাকের, অথবা সামাজিকতার। কিন্তু তাতে বাঙালিয়ানার অন্তর রূপটি ধরা পড়েনা। তবে তাতে দোষের কিছু নেই। বাইরের প্রকাশ তো আর অন্তরের মূল্যবোধগুলোকে ঢেকে দিতে অথবা এসবের ভুল ব্যাখ্যা করতে পারে না। বাঙালিয়ানার দুটি রূপের কথা একটু আগে বলেছি। বাহ্য রূপটা তো ইমেজের সার্বভৌমত্ব এবং সর্বগামিতার কল্যাণে আমরা ক্রমাগত দেখছি। এই বাহ্যরূপে বাঙালিয়ানা শুধু স্থানীয় নয়, বৈশিকও। ফলে বাঙালিয়ানা এখন একটি স্বাধীন জাতিসত্তার স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রকাশও। অনেকের একটা ধারণা, বাঙালিয়ানা ব্যাপারটা প্রকাশের ব্যাপার। অন্য অনেকের ধারণা, এটি অনুভবের ব্যাপার। দুই চিন্তাতেই সার আছে। পঞ্চাশ বছর আগে পরিমল গোস্বামী একটি লেখায় এরকম মন্তব্য করেছিলেন, ‘যে ব্যক্তি ইংরেজি ভালো জানেন, (বিলেতে কিছুকাল বাস করে এলে আরও ভালো হয়)অথচ যে ব্যক্তি বাড়িতে খালি গায়ে থাকেন, চটি পরেন, বিলেতে থাকা সত্ত্বেও পূজার্চনাদি করেন, তারা খাঁটি বাঙালি’(১৯)। তাঁর মতে, পায়ে চটি আছে কি না, তা দেখে বাঙালিত্ব নির্ণয় করতে হবে। এটি বাঙালিয়ানার খুব দুর্বল একটি বর্ণনা। এতে বাঙালিয়ানা কিছু ব্যবহারে, আচারে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। একজন বাঙালি ইংরেজি না জেনেও বাড়িতে খালি গায়ে না থেকেও, পূজা-অর্চনা না করেও খাঁটি বাঙালি হতে পারেন, যদি তার মনটা জুড়ে বাংলাদেশ থাকে, মানুষের জন্য হিতাকাক্সক্ষা থাকে, প্রকৃতির জন্য আকুলতা থাকে, সকলের জন্য তার দ্বার আবারিত থাকে এবং যিনি কিছু আচারের বৃত্তে নিজেকে বন্দি না করে বহুজনের জীবনকৃত্যে নিজেকে সংযুক্ত করতে পারেন। বাঙালিয়ানার একটি শক্তি একের সঙ্গে অন্যের, বহুজনের মেলাবার শক্তি। এখন যে পয়লা বৈশাখে বাংলাদেশ জাগে এক বিশাল উদ্যাপনে, ফেব্রুয়ারিতে দেশ জাগে শোকের উৎসবে, মার্চে আন্দোলিত হয় স্বাধীনতার চেতনায়, ফাগুনের প্রথম দিনে, এমনকি করপোরেট ঠাকুরদের তৈরি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে প্রেমঘন চোখে তাকায় জগতের দিকে এবং সারা বছর এমন অসংখ্য আয়োজনে আনন্দ খুঁজে নেয়, তাতে বোঝা যায়, বাঙালিয়ানার দায়িত্ববোধের সঙ্গে যোগ হয়েছে এর আনন্দ এবং উদ্যাপনের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। বিশ্বায়নের যুগে, উৎকর্ষ-সন্ধানী প্রযুক্তির যুগে বাঙালি বোতাম আঁটা জামা পরে ঘরে বসে থাকতে পারে না, তাকে যোগ দিতে হবে জগতের কর্মপ্রবাহে, উৎসবে আয়োজনে, জ্ঞানসাধনা এবং সৃষ্টিশীলতার নানা চর্চায়, এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকা-ে। এজন্য বাঙালিয়ানার একটি বৈশ্বিক রূপও তৈরি করতে হবে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাঙালিয়ানাকে বিচার করলে কিছু শঙ্কা, কিছু সম্ভাবনা আমাদের মনে জাগে। শঙ্কাটি আসে চারটি বাস্তবতা থেকে- ১. বৈশ্বিক পুঁজির শাসন: ২. পণ্য সংস্কৃতির প্রভাব, ৩. নানা ধরণের চিন্তা ও মতবাদ ভিত্তিক উগ্রবাদ এবং ৪. পশ্চিমের ‘ভিন্নতা বিরোধী’ অবস্থান। একসময় পূর্বকে পশ্চিম দেখত একটা কৌতুহল এবং বিস্ময়ের দৃষ্টিতে, এখন দেখছে ভয় আর সন্দেহের দৃষ্টিতে। এখন বাঙালিয়ানাকে পশ্চিম একটা বিপদ মনে করতে পারে, যেহেতু যা কিছু অপরিচিত, পশ্চিম তাকেই সন্দেহ করে। কিন্তু এটি বড় কোনো সমস্যা নয়, বড় সমস্যা পশ্চিমের পণ্য সংস্কৃতির অন্তর্গত ‘একীভূত করা’ বা হরমোনাইজেশনের প্রকল্প। পশ্চিমের কোকা-কোলা বা ম্যাকডোলান্ডকরণ প্রচেষ্টার মূলে হচ্ছে বিভেদ আর জীবনচর্চার পার্থক্য ঘুচিয়ে ফেলে পশ্চিমের অনুবর্তী হয়ে পড়া। ডাবের পানি আর ভাপা পিঠা এখন অপাংক্তেয় হবে কোকা-কোলা আর ম্যাকডোনান্ড বার্গারের শক্তির কাছে। এই একীভূত বা সামান্যিকরণের ফলে সারা পৃথিবীতে খাদ্য হবে অভিন্ন, পানীয় হবে অভিন্ন। তাতে পশ্চিমের খাদ্য-পানীয় প্রভুরা প্রতিদিন হাসতে হাসতে ব্যাংকে যাবে। অবস্থাটা যদি এরকম দাঁঁড়িয়ে যায়, তবে একসময় বাঙালিয়ানাকে তার নিজস্বতা বলি দিতে হবে পশ্চিমের সংস্কৃতির নানা প্রকাশের কাছে। বাংলা ভাষা, দুই বাংলাতেই শুধু এলিট নয়, মধ্যবিত্তও বেছে নিয়েছে পশ্চিমা জীবনাচরণ। পোশাকে-আশাকে পশ্চিমা হলে সমস্যা নেই, কিন্তু মনের দিক থেকে পশ্চিমা, বিশেষ করে শেকড়হীন নকল-পশ্চিমা হলে সমস্যা অনেক। কিন্তু পশ্চিম তো আর নকল পশ্চিমাকে গ্রহণ করবে না। ফলে আমাদের পশ্চিমভক্তরা আদতেই ভূমিহীন মানুষ। তাদের মূলভূমি- বাঙালিয়ানা- এখন তারা হারিয়ে ফেলেছে পশ্চিমা সংস্কৃতির আগ্রাসনে। বৈশ্বিকতা আমাদের একটা মেকী ধারণা দেয় যে, আমরা সবাই এক বিশ্বের মানুষ, এক নৌকার যাত্রী। ব্যাপারটা আদতে তা নয়। এক বিশর মানুষ বটে, তবে দেশজ এবং স্থানীয় নিজস্বতা না থাকলে বিশ্ব আমাদের সমীহ করবে না, কর”ণা করবে বরং। এই নিজস্বতা হচ্ছে বাঙালিয়ানা। আমরা এক নৌকার যাত্রী বটে, তবে আমরা যে দাঁড়িয়ে যাই, বসার আসন পাই না, সেটাও খেয়াল করতে হবে। আসনটা পাব না, যদি আমরা পশ্চিমের অনুকরণে নিজেদের সাজাই। পাব, যেদিন আমাদের গর্বিত বাঙালিয়ানায় আমরা উদ্ভাসিত হব। গুর”সদয় দত্তের ব্রতচারি আন্দোলনের একটি মন্ত্র ছিল এই: ‘বিশ্বমানব হবি যদি, কায়োমনে বাঙালি হ’। কায়োমনে বাঙালি হওয়াটা বাঙালিয়ানারই একটি নিকষিত রূপ। এর অর্থ অবশ্য এ নয় যে, আমরা বিশ্বকে বাদ দেব। মোটেও তা নয়। বিশ্বকে আমরা জানব, তার পথে হাঁটব, তা থেকে নেব, কিন্তু আমাদের নিজস্বতা বিসর্জন দেব না। বৈশ্বকতা মানে বিশ্বের কাছে বিলীন হয়ে যাওয়া নয়, বরং নিজের ভেতর বিশ্বকে ধারণ করা। প্রথম ক্ষেত্রে শর্তগুলি দেবে বিশ্ব, এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আমরা। এই শর্ত দেয়ার শক্তিটা দেবে প্রকৃত বাঙালিয়ানা। আজকের পণ্যবাজারের পরিভাষায় বলা যায়, বাঙালিকে নতুন করে একটি ব্র্যান্ড তৈরি করতে হবে। এই ব্র্যান্ড বা পরিচয়কে খুব দক্ষতার সঙ্গে একটি ভিন্ন ও নেতিবাচক পরিচয়কে ভাঙতে হবে, সে পরিচয়ে বাঙালি সর্বদাই অলস, কলহপ্রিয়, আত্মঘাতী (যেমন বাংলাদেশ সম্পর্কে পরিচয়টি হচ্ছে এটি দুর্যোগপ্রবণ, দারিদ্র্যপীড়িত, সহিংস এবং রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল একটি দেশ)। বাঙালিয়ানার নতুন পরিচয়টি কি হতে পারে না শিক্ষিত, সংস্কৃতিমান, আত্মবিশ্বাসী, উদভাবনী ও সৃষ্টিশীল ক্ষমতার অধিকারী এবং জীবনবাদী হিসেব? অবশ্যই পারে, কিন্তু সে জন্য বাঙালিয়ানার পরিচয়গুলো আমাদের ধারণ করতে হবে, সেগুলোর চর্চা করতে হবে। দৃশ্যমাধ্যম বা দৃশ্য সংস্কৃতির এক বড় ভিত্তি হচ্ছে প্রযুক্তি। বিশ্বায়নের ঢেউ দ্র”ত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার পেছনে আছে এই প্রযুক্তি। পশ্চিম এই প্রযুক্তির উদ্ভাবক, কিন্তু এখন আর একচ্ছত্র মালিক নয়। এতদিন পশ্চিমের দৃশ্যসংস্কৃতিকেই আমরা গ্রহণ করে যাচ্ছিলাম, কিন্তু এখন আমরা পারি পশ্চিমের কাছে আমাদের সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিতে। অবশ্য এই পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রয়োজন অর্থনৈতিক শক্তি। আজকাল পকেটে টাকা আর মাথা-বোঝাই জ্ঞান না থাকলে বিশ্বসভায় কেউ ঠাঁই পায় না। আমাদের জ্ঞানের কমতি নেই, টাকার দিক থেকে যে ফকির তাও নয়। একজন অর্থনীতিবিদ লিখেছেন, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশে^র কুড়িটি বড় অর্থনৈতিক শক্তির একটি হতে পারে। সত্য-মিথ্যা পুঁচিবাজারের ঈশ্বর জানে। কিন্তু অর্থনীতির সুফল যদি সকলের কাছে না পৌঁছে, যদি ধনী-দরিদ্র ব্যবধান থাকে অলঙ্ঘনীয়, যদি দরিদ্র এক বিশাল সংখ্যার মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়, বাঙালিয়ানা একটা অসমাপ্ত এক অর্থহীন বিষয় হিসেবে থেকে যাবে। আজ না হোক, কাল অথবা পরশু তো আমাদের অর্থনীতি শক্ত হবে, শ্রেণী বৈষম্য কমবে, দূর না হলেও। আমরাও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উৎপাদন করবো। তখন বিশ্ব আগ্রহ ভরে তাকাবে আমাদের দিকে। আর আমরা আমাদের শ্রেষ্ঠ পরিচয়টিই তখন বিশ্বকে দেব, সেই পরিচয়টি যোগ হবে নবজন্ম লাভ করা বাঙালিয়ানায় যেখানে প্রতিটি বাঙালির স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকবে। তথ্য সূত্র: গোস্বামী পরিমল, রবীন্দ্রনাথ, বাঙালি, বাংলা ভাষা ও নানা নিবন্ধ’, কলকাতা প্রাইম পাবলিকেশশনস, ১৯৮৮। চৌধুরি, নীরদচন্দ্র, আত্মঘাতি বাঙালি’, কলকাতা মিত্র ঘোষ, ১৯৮৮। লেখক:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজী বিভাগের শিক্ষক
.......বিস্তারিত
ফুসফুসের সমস্যায় ঢাকার ২৫ শতাংশ মানুষ
বাংলাদেশে বিশেষ করে ঢাকায় বায়ুদূষণ মাত্রা চরম আকার ধারণ করেছে। বায়ুদূষণের কারণে রাজধানীর ২৫ শতাংশ মানুষ ফুসফুসের নানা সমস্যায় আক্রান্ত। আর এর মধ্যে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার হারও উদ্বেগজনক। গত ৩১ মার্চ সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘নাগরিক স্বাস্থ্যের ওপর বায়ুদূষণের প্রভাব’ শীর্ষক এক গবেষণার ফলাফল অনুষ্ঠানে এমন তথ্যই উপস্থাপন করা হলো। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি (বিইউ) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে গবেষণার মূল ফলাফল উপস্থাপন করেন ঢাকা শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন। তিনি জানান, রাজধানীর প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছে। বায়ুদূষণের কারণে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুসফুসের সমস্যাও বাড়ছে। গবেষণায় রাজধানীর ১১টি এলাকার শিশুসহ নানা বয়সী ৫০০ জনের বেশি মানুষের ফুসফুসের সক্রিয়তার পরীক্ষা বা পালমোনারি ফাংশন টেস্ট (পিএফটি) করা হয়। পিএফটির ফলাফলে দেখা যায়, রাজধানীর ২৩.৪৭ শতাংশ বাসিন্দা ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছে। জরিপে অংশ নেওয়া শতকরা ২২.১৮ ভাগ পুরুষ ও ২৪.৭২ ভাগ নারী ফুসফুসের সমস্যায় আক্রান্ত। অনুষ্ঠানে স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘আমাদের শহরের বায়ুদূষণের মাত্রা বিশ্বের অনেক শহরের তুলনায় বেশি। দিল্লি ও বেইজিং শহরে আমাদের থেকে কম মাত্রার বায়ুদূষণ হওয়ার পরও সেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছে। তেমনি আমাদের শহরের সবাইকে বায়ুদূষণের ব্যাপারে সজাগ হতে হবে।’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান কাজী জামিল আজহার আরবান ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য, কর্মকাণ্ড ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক সিটি করপোরেশনের আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকের সব ধরনের ইউটিলিটি সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, এ শহরকে দূষণমুক্ত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আর গ্রিন ঢাকা গড়তে ডিএনসিসি এলাকায় আগামী দুই বছরের মধ্যে তিন লাখ ২৫ হাজার গাছ রোপণ করা হবে। সেই সঙ্গে সব ভবন মালিককে তাঁদের ভবনে নতুন করে রং করার আহ্বান জানান তিনি। ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হক বলেন, ‘আমরা শত শত টন বর্জ্য, মেডিক্যাল বর্জ্য, নির্মাণ বর্জ্য পরিবেশসম্মতভাবে ব্যবস্থাপনা করতে সব ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। ময়লা-আবর্জনা নিয়ে ট্রাক যাতায়াত করার সময় ঢেকে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বালুভর্তি যেসব ট্রাক রাজধানীতে প্রবেশ করে তাদেরও ঢেকে আসতে হবে। ময়লা ও বালুর বেশির ভাগই বাতাসের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। ফলে আমাদের শহরের বায়ুদূষণ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, কোনো দোকান মালিক তার নিজস্ব জায়গার বাইরে মালামাল রাখতে পারবে না। যারা আইন মানবে না তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে সেবা সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুল মালিক বলেন, সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড থেকে শুরু করে মার্কারি, লেডের মতো ভারী পদার্থ বাতাসে মিশে যাচ্ছে। এগুলো ফুসফুসের পাশাপাশি হূদরোগ, যকৃতের সমস্যা ও গর্ভবতী মায়েদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বায়ুদূষণের কারণে ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা ও শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রদাহজনিত (সিওপিডি) রোগ বেশি হচ্ছে।
.......বিস্তারিত
মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে ১৪ দল কোনো আপোষ করবে না : নাসিম
মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে কেন্দ্রীয় ১৪ দল কোনো আপোষ করবে না। এই জোট মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের উপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত। আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এ কথা বলেছেন। ৩১ মার্চ সেগুনবাগিচাস্থ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে গণতন্ত্রী পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার আরশ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, গণআজাদী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস কে শিকদার, গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ শিকদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাৎ হোসেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, কেন্দ্রীয় ১৪ দল মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে কোন আপোষ করবে না। এই জোট মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের উপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত। বিএনপি-জামায়াত জোটের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে ১৪ দলের নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বলেন, দেশ, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত রয়েছে। শেখ হাসিনা যখন সকল ক্ষেত্রে সফল হচ্ছেন, তখন চক্রান্ত আরও গভীর হচ্ছে। সবাইকে মনে রাখতে হবে, জাতির পিতা যখন স্বাধীনতার পর দেশ পুনর্গঠনে সফল হচ্ছিলেন, তখন স্বাধীনতাবিরোধীরা চক্রান্ত করে তাকে সপরিবারে হত্যা করে। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। মোহাম্মদ নাসিম আশা প্রকাশ করেন, ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া অংশ গ্রহণ করবেন। খালেদা জিয়া ইতিপূর্বে বলেছিলেন, শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন না। কিন্তু তিনি সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০১৯ সালে শেখ হাসিনার অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপি অংশ গ্রহণ করবে।
.....বিস্তারিত

  বিশেষ প্রতিবেদন
 * ওরা নরপশু ওদের ফাঁসি চাই
 * ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে’ মুস্তাফা জামান আব্বাসী
 * উত্তর দিয়েছেন শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া জাতিসংঘ মহাসচিবের চিঠি ॥ সংলাপে বসুন
 * বন্দুকযুদ্ধ ও পেট্রল বোমায় দীর্ঘায়িত হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল উপেক্ষিত মানবাধিকার ও গণতন্ত্র
 * একুশের চেতনায় মানবাধিকার
 * মানবাধিকার খবর কৃষ্ণ রজনী শেষে সূর্য রশ্মির ঝিলিক
 * ক্ষমতার লড়াইয়ে গণতন্ত্র-মানবাধিকার ভূলুন্ঠিত রাজনৈতিক এ যুদ্ধের শেষ কোথায়? প্রতিদিন জীবন্ত দগ্ধ হচ্ছে সাধারণ ন
  জাতীয়
 * ভাষার মাসে মানবাধিকার খবর’র চতুর্থ বর্ষে পদাপর্ণ সকলের সহযোগিতায় সর্বস্তরে মানবাধিকার সংরক্ষণ ও প্রতিষ্ঠায় যে
 * মানুষ বাঁচাতে যে কোন মূল্যে সুন্দরবন বাঁচাতে হবে
 * মহান বিজয়ের ৪৪ বছরের শপথ হোক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার
 * ত্যাগ ও খুশির ঈদ আনন্দ ও বেদনার দুর্গা পূজা
 * বিশ্ব পর্যটন দিবস - সরকারের আন্তরিকতায় অর্জিত হতে পারে বৈদেশিক মুদ্রা
 * বিশ্ব মানবতা দিবস! গাজায় নিষ্পাপ শিশুদের নিথর দেহ বিচ্ছিন্ন মস্তক; মানবাধিকার কোথায়?
 * পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর’র আনন্দ হোক সার্বজনীন
  সারাদেশ
 * মাবাইল ছিনতাই অতঃপর আটোয়ারীতে পরিত্যাক্ত অবস্থায় রিভলবার উদ্ধার!
 * কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আগের জামানই আছি : খাদ্য প্রতিমন্ত্রী
 * অপহৃত ছাত্রী উদ্ধার ও অপহরণকারী শিক্ষিকার শাস্তির দাবিতে মানব বন্ধন
 * কচুয়ায় কলেজ ছাত্রী অপহরণ ও ভারতে পাচার মামলার প্রধান আসামী আটক
 * ডিবি পরিচয়ে অপহরণ অপহৃত স্বামীকে ফিরে পাবেন কী তহমিনা আক্তার বৃষ্টি
 * হিজড়া বানানোর ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেটের হাতে বিপন্ন হচ্ছে অনেক অসহায় তরুণ তরুণীর জীবন
 * এনআইডি’র দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারির রোষানলে দুই সাংবাদিক
  র্পযটন
 * ঘুরে আসতে পারেন নয়াদিল্লীর কুতুবমিনার
 * ঘুরে আসতে পারেন পশ্চিমবঙ্গের দীঘা সমুদ্র সৈকত
 * পশ্চিমবঙ্গের উস্থি থানায় বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের ডাক
 * আসানসোল
 * বর্ধমান
 * ঘুরে এলাম হাসন রাজার দেশে
 * দেশের বাইরে ভ্রমণ : ভারত বেড়াতে যেতে পারেন পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগর ও মায়াপুর
  আর্ন্তজাতিক
 * রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ
 * কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা বাস পরিসেবা চালু
 * কলকাতা-খুলনার মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে পেট্রাপোলে রেল কর্মকর্তারা
 * মাদার তেরেসার উত্তরসূরি সিস্টার নির্মলা আর নেই
 * শিশু অধিকার লঙ্ঘনকারী দেশ নিষিদ্ধের সুপারিশ
 * ব্যাপক ধর্ষণে জড়িত কঙ্গোর সেনাবাহিনী
 * ভারতীয় মন্ত্রী ও পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার সাংবাদিককে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেছে পুলিশ
  মানব র্দুভোগ
 * মানবাধিকার খবরের উদ্ধারের উদ্যোগ ভারতের কারাগারে গৃহবধু মুন্নি
 * ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ দেড় মাসেও উদ্ধার হয়নি অপহৃত ব্যবসায়ী ফজলুল হক
 * মানবাধিকার বিপদাপন্ন
 * প্রতিবন্দ্বী মৃদুল দয়া নয় ভালোবাসা নিয়ে বাঁচতে চায়’
 * সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ সংবাদমাধ্যমের পক্ষে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে
 * আবাসিক হোটেলগুলো কতটা নিরাপদ?
 * ফলে রাসায়নিক বন্ধে আদালতের ৫ নির্দেশনা
  ফটোগ্যালারী

Exclusive Entertainment


Corporate Office
53,Modern mansion(8th floor),Motijheel C/A, Dhaka
E-mail:manabadhikarkhabar34@yahoo.com, info@manabadhikarkhabar.com
Tel:+88-02-9585139
Mobile: +8801978882223
Fax: +88-02-9585140
Editor & Publisher: Rtn. Md Reaz Uddin
Mobile:+88-01711391530
Email: md.reaz09@yahoo.com

Copyright @ 2012 ®
All Rights Reserved by manabadhikarkhabar.com
Developed By Soft.Eng. Forhad Alam [01722436067]